ম্যাগি প্যাকেটের সাইজ কমে গেল'ব্যস ২ মিনিটে ম্যাগি' এবার আরও ছোট। ম্যাগিপ্রেমীদের ধাক্কা দিয়ে কমিয়ে দেওয়া হল ম্যাগির ওজন। নেসলে ইন্ডিয়া ম্যাগি নুডলস প্যাকেটের ওজন ৭-৯ শতাংশ কমিয়ে দিল। কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও দাম না বাড়িয়ে এই পরিকল্পনা করল ম্যাগি। ব্যবসার ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলে ‘শ্রিন্কফ্লেশন'। যেখানে জিনিসের দাম একই রেখে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়।
একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে,৭ টাকার ম্যাগির প্যাকেটে এতদিন ওজন ছিল ৩৫ গ্রাম। কোম্পানি সেই ওজন কমিয়ে ৩২ গ্রাম করা হয়েছে। এটি প্রায় ৯ শতাংশ ওজন কমানোর সামিল।
১০ টাকার প্যাকেটের ওজন ৫২ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪৮ গ্রাম,
১৫ টাকার প্যাকেটের ওজন ৭৫ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৭০ গ্রাম,
৩০ টাকার প্যাকেটের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ১৪০ গ্রাম,
৬০ টাকার প্যাকেটের ওজন ৩০০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ২৮০ গ্রাম,
৯০ টাকার প্যাকেটের ওজন ৪৫০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪২০ গ্রাম এবং
১২০ টাকার প্যাকেটের ওজন ৬০০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৫৬০ গ্রাম করা হয়েছে। অর্থাৎ বেশিরভাগ প্যাকেটেই ৭ শতাংশ করে ওজন কমানো হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট উল্লেখ করে বিজনেস টুডে (হিন্দি)-র তরফে জানানো হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করতেই এই কৌশল নিয়েছে নেসলে ইন্ডিলা। কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা গ্রাহকদের জন্য জিনিসের দাম যথাসম্ভব স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। আর সেই কারণে ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই ওজনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কোম্পানির মতে, মূল্যবৃদ্ধি হল তাদের শেষ উপায়। তার আগে, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে খরচ কমানোর চেষ্টা করে। যখন এই উপায়গুলো যথেষ্ট হয় না, তখনই কোম্পানি দাম বা প্যাকেটের আকার পরিবর্তনের কথা ভাবনা চিন্তা করে।
উল্লেখ্য বিষয় হল, ভারতের বাজারে ম্যাগি নেসলে ইন্ডিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্র্যান্ড। কোম্পানির রাজস্বের একটি প্রধান উৎসও এই '২ মিনিটে ম্যাগি'। তাই এই গ্রাহক হারাতে কোনও ভাবেই রাজি না কোম্পানি। সেই কারণেই কাঁচামালের খরচবৃদ্ধি সত্ত্বেও দাম অপরিবর্তিত রাখতে কোম্পানিটি প্যাকেটের ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।