Pradhanmantri Janaushodhi Yojana Centers: বাংলায় আরও ৪৬৯টি জনৌষধি কেন্দ্র, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায়, কীভাবে পাবেন সুবিধা?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি প্রকল্পের আরও ৪৬৯টি সেন্টার চালু হবে রাজ্যে। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহকুমা হাসপাতাল পর্যন্ত এই যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে।

Advertisement
 বাংলায় আরও ৪৬৯টি জনৌষধি কেন্দ্র, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায়, কীভাবে পাবেন সুবিধা? দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের ওষুধশিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি  যোজনা (PMBJP) দেশের অন্যতম জনপ্রিয়  স্বাস্থ্য উদ্যোগ। রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সারা দেশে মাত্র ৮৪টি  জনৌষধি কেন্দ্র (JAKs) চালু ছিল, যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে এর সংখ্যা বেড়ে ১৯,২০০-এর বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের ফলে লক্ষ লক্ষ নাগরিক সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের জেনেরিক ওষুধ পাবেন। এই প্রকল্পটি প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর এলাকাতেও পৌঁছেছে। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ২০১৪ সালে মাত্র একটি  জনৌষধি  কেন্দ্র ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে এর সংখ্যা বেড়ে ৪১৭-তে দাঁড়িয়েছে।

রাজ্যগুলির মধ্যে, উত্তরপ্রদেশ ৪,০৪২  জনৌষধি  কেন্দ্র নিয়ে দেশের নেতৃত্বে রয়েছে, তারপরে কেরল  (১,৭৯১), কর্ণাটক (১,৬৬৫), তামিলনাড়ু (১,৫৯১), বিহার (১,১৮৩), পশ্চিমবঙ্গ (৯৩৭), গুজরাত (৯১৮), ওডিশা (৮৫২), মহারাষ্ট্র (৭৪১) রয়েছে।

জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে  জনৌষধি  কেন্দ্রের সংখ্যা ২০১৪ সালের ৪টি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬৪৫টি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে এই সংখ্যা ৬ থেকে বেড়ে ৩৫৮, পঞ্জাবে ২০ থেকে বেড়ে ৫৫৬, হিমাচল প্রদেশে ৮ থেকে বেড়ে ৭৬ এবং ত্রিপুরায় ১ থেকে বেড়ে ৩৩ হয়েছে।

মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় নাগরিকরা এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করেছেন।

বাংলায় আরও বাড়ছে জনৌষধি কেন্দ্র
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি প্রকল্পের আরও ৪৬৯টি সেন্টার চালু হবে রাজ্যে। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহকুমা হাসপাতাল পর্যন্ত এই যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'একজনের পরিবারে যদি মাসে ২০০০ টাকার ওষুধ লাগে, এই সেন্টারগুলি চালু হলে সেই খরচ ২০০ টাকায় নেমে আসবে। পাঁচগুণ বেনিফিট মিলবে।' এছাড়া, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়ের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

কী এই জনৌষধি প্রকল্প
সস্তায় ওষুধ বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই জনৌষধি যোজনার সেন্টার খুলেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এর সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫,০০০ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। জনৌষধি কেন্দ্র গড়তে মহিলা, এসসি-এসটি অন্তর্ভুক্তদের জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ দেয় কেন্দ্র। এই সব কেন্দ্রে জনৌষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন মেলে ১ টাকায়। এই যোজনার কেন্দ্র বাড়ানো হওয়ার ঘোষণায় খুশি সাধারণ মানুষ। তাঁরা বলছেন, যেভাবে ওষুধের দাম বাড়ছে, তাতে ছাড় পেলে সুবিধাই হয়। বহু পরিবারেই এখন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে, ফলে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। সে ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলি থেকে সস্তায় ওষুধ পেলে সুবিধাই হবে।

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্যে ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। শুভেন্দু বলেছেন, 'এর মাধ্যমে ব্লক হেলথ সেন্টার, বিপিএইচসি, সাব ডিভিশন হসপিটাল এবং ডিস্ট্রিক হসপিটাল কভার করবে। একজনের পরিবারে যদি মাসে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন - এইসব মিলিয়ে ২ হাজার টাকার ওষুধ লাগে, সরকার নিয়ন্ত্রত ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র চালু হলে, এটা ধরে নিতে পারেন আনুমানিক তা কমে ২০০ টাকায় পৌঁছাবে। জনগণ অন্তত ১০ গুণ সুবিধা পাবেন।' পাশাপাশি অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৫০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে চলেছেন ক্রেতারা।
 

POST A COMMENT
Advertisement