টাকা জমানোর নিনজা টেকনিক শিখে নিনমাসকাবারি বাজার থেকে শুরু করে উইকেন্ডের পার্টি; মাসের শুরুতে পকেটে রেস্ত থাকলেই আমরা দু’হাতে খরচ করতে ভালোবাসি। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ২০ তারিখ পেরোতে না পেরোতেই শুরু হয় টানাপোড়েন। মাসের শেষে ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানো বা জরুরি প্রয়োজনে হাত পাতার পরিস্থিতি তৈরি হয় অনেকেরই। আপনিও কি এই ‘বাজে খরচে’র তালিকায় নাম লিখিয়েছেন? চিন্তা নেই, টাকা জমানোর জন্য কোনও জাদুদণ্ডের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন কিছু ‘নিনজা টেকনিক’। সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে ফেললেই আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স উপচে পড়বে। জেনে নিন সঞ্চয়ের সেই অব্যর্থ উপায়গুলি।
১. ‘৫০-৩০-২০’ নিয়ম: জমানোর প্রথম ধাপ
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ৫০-৩০-২০ নিয়ম। আপনার মোট আয়ের ৫০ শতাংশ খরচ করুন অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে (যেমন; বাড়ি ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, রেশন)। ৩০ শতাংশ রাখুন আপনার শখ বা বিনোদনের জন্য। আর বাকি ২০ শতাংশ টাকা চোখ বন্ধ করে সরিয়ে রাখুন সঞ্চয়ের জন্য। মাসের শুরুতে খরচ করার আগে এই ২০ শতাংশ টাকা আলাদা করে নেওয়াই হলো আসল ‘নিনজা চাল’।
২. ৩০ দিনের অপেক্ষা: হুজুগে কেনাকাটায় রাশ
অনলাইন শপিং সাইটে সেল দেখলেই আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিন্তু কেনার পর দেখা যায় সেই জিনিসটি আসলে কোনও কাজেই লাগছে না। একেই বলে ‘ইমপালসিভ বায়িং’। এটি রুখতে ৩০ দিনের নিয়ম মেনে চলুন। কোনও দামী জিনিস পছন্দ হলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে না কিনে ৩০ দিন অপেক্ষা করুন। এক মাস পর যদি দেখেন সেই জিনিসটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন, তবেই কিনুন। দেখবেন, অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে আপনার আর সেই জিনিসের প্রয়োজন বোধ হবে না।
৩. ছোট ছোট খরচে নজর দিন
আমরা বড় খরচের হিসাব রাখলেও ছোট খরচগুলো এড়িয়ে যাই। প্রতিদিনের দামি কফি, বাইরের ভাজাভুজি বা অপ্রয়োজনীয় ওটিটি (OTT) সাবস্ক্রিপশন মাসের শেষে একটি মোটা অঙ্কে গিয়ে দাঁড়ায়। এই ছোট ছোট খরচে কাঁচি চালালে আপনি অবাক হয়ে দেখবেন, মাসে কয়েক হাজার টাকা অনায়াসেই বেঁচে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস কেবল স্বাস্থ্যকর নয়, পকেটের জন্যও উপকারী।
৪. স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয় বা অটোমেশন
টাকা জমানোর সবচেয়ে বড় বাধা হলো আমাদের আলস্য। তাই নিজের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে রেকারিং ডিপোজিট (RD) বা এসআইপি (SIP)-তে টাকা কাটার তারিখটি এমনভাবে সেট করুন যাতে বেতন হওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই টাকাটি বিনিয়োগ হয়ে যায়। আপনার হাতে টাকা আসার আগেই যদি তা সঞ্চয়ের খাতে চলে যায়, তবে খরচ করার সুযোগই পাবেন না।
৫. নগদে লেনদেনের জাদু
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI)-এর যুগে টাকা খরচ করা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। ফোনের এক ক্লিকেই টাকা চলে যাচ্ছে, যার ফলে ব্যথার টানটা ঠিক বোঝা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পকেটে নগদ টাকা রেখে খরচ করেন, তবে টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়টা মনের মধ্যে বেশি কাজ করে। এতে অবচেতনভাবেই আপনি কম খরচ করবেন।
দ্রষ্টব্য: শেয়ার, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলি বাজার পর্যবেক্ষণ মাত্র। এগুলি বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই পড়াশোনা করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য গ্রহণ করুন।