ঠিক কোন ইনস্ট্রুমেন্টে টাকা রাখলে লাভ হবে? Mutual Fund vs Gold vs Fixed Deposit: ভারতে বিনিয়োগের মার্কেট গত কয়েক বছরে আমূল বদলে গিয়েছে। আগে বিনিয়োগ বলতে সবাই পোস্ট অফিস আর ব্যাঙ্কই বুঝতেন। তবে এখন ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার মার্কেট, ব্রোকারেজ অ্যাপ ইত্যাদির ছড়াছড়ি। ফলে বাজারে অপশনের অভাব নেই। কিন্তু সেই এত বেশি অপশনই মানুষের মধ্যে কনফিউশন তৈরি করছে। ঠিক কোন ইনস্ট্রুমেন্টে টাকা রাখলে লাভ হবে? সেই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনা ও ফিক্সড ডিপোজিটই সবচেয়ে ভরসার জায়গা। ঝুঁকি কম। রিটার্ন নিশ্চিত। এই দুই বিষয়ের উপরেই মানুষ সবচেয়ে বেশি জোর দিত। তবে গত কয়েক বছরে ছবিটা কিছুটা বদলেছে। তুলনামূলক ভাবে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনার কারণে মিউচুয়াল ফান্ডে ঝুঁকছেন বহু বিনিয়োগকারী। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এক জায়গায় সব টাকা না রেখে বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ধরা যাক, কেউ এককালীন ৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড, সোনা বা ফিক্সড ডিপোজিট; এই তিনটি অপশন রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঝুঁকি, মেয়াদ এবং সম্ভাব্য রিটার্ন; সব দিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
মিউচুয়াল ফান্ড vs সোনা vs ফিক্সড ডিপোজিট
পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘমেয়াদে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে গড়ে বছরে প্রায় ১২ শতাংশ রিটার্ন মিলেছে। সোনার ক্ষেত্রে গত ১০ বছরে গড় বার্ষিক রিটার্ন প্রায় ১০ শতাংশ। আর ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি-র ফিক্সড ডিপোজিটে ৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদে সুদের হার বর্তমানে ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
এই হিসাব ধরেই যদি ৪ লক্ষ টাকা ১০ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে মিউচুয়াল ফান্ডে সেই টাকা বেড়ে প্রায় ১২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকায় পৌঁছতে পারে। তবে এটা পুরোটাই আনুমানিক। এর চেয়ে কমও হতে পারে। আবার বেশিও হতে পারে।
সোনায় বিনিয়োগ করলে মোট মূল্য দাঁড়াতে পারে আনুমানিক ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। এটাও আনুমানিক। কম-বেশি হতেই পারে।
আর ফিক্সড ডিপোজিটে একই সময়ে সেই অঙ্ক পৌঁছতে পারে প্রায় ৮ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকায়। এক্ষেত্রে কিন্তু বিনিয়োগের সময়েই ম্যাচিওর অ্যামাউন্টটা জেনে যাবেন। লসের কোনও সম্ভাবনাই নেই।
মিউচুয়াল ফান্ড ও সোনা; দু’টিই বাজারনির্ভর। সেখানে রিটার্ন কমাবাড়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে ফিক্সড ডিপোজিটে রিটার্ন স্থির। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাটা ভেবে দেখুন। তাছাড়া একটি সেফ অঙ্ক ফিক্সড করে দিন। বাকি টাকায় অল্প অল্প করে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
দ্রষ্টব্য: শেয়ার, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলি বাজার পর্যবেক্ষণ মাত্র। এগুলি বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই পড়াশোনা করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য গ্রহণ করুন।