নেপাল থেকে আফ্রিকান ক্যাটফিশ ভেসে আসছে বলে খবরনেপালের হড়পা বান। সেখান থেকে ভেসে আসছে মাছ। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের বিভিন্ন এলাকায় নদীর জলে ভেসে আসা মাছ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়েছে, নেপাল থেকে নাকি বিপুল পরিমাণ আফ্রিকান ক্যাটফিশও ভেসে এসেছে ভারতে! যা 'থাই মাগুর' হিসেবেও খ্যাত। আর ভারতে থাই মাগুর নিষিদ্ধ। সত্যিই কি নেপাল থেকে থাই মাগুর ভেসে ভারতে এসেছে? আর ভারতে কেন এই মাগুর মাছ নিষিদ্ধ? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রথমেই বলা দরকার, নেপাল থেকে ভেসে আসা মাছগুলির মধ্যে থাই মাগুর রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীতে বরালি, গ্রাস কার্প এবং রুই-সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেখানে থাই মাগুরের দেখা মেলেনি।
এবার আসা যাক আফ্রিকান ক্যাটফিশ নিষিদ্ধ কিনা, সেই প্রশ্নে। অতিসম্প্রতি নাগপুরে ১১টি পুকুর থেকে উদ্ধার করা ৩৬ টন নিষিদ্ধ থাই মাগুর ধ্বংস করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু কেন ভারতে এই মাছ চাষ নিষিদ্ধ?
কেন নিষিদ্ধ এই মাছ?
আগে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক থাই মাগুর সম্পর্কে। থাই মাগুর মূলত এক ধরনের ক্যাটফিশ। যা আফ্রিকান ক্যাটফিশ নামেও পরিচিত। মাছ চাষের ব্যবসার জন্য এক সময় এই প্রজাতিকে ভারতে আনা হয়েছিল। অন্যান্য অনেক দেশীয় মাছের তুলনায় এটি অত্যন্ত দ্রুত বাড়ে। কম জায়গাতেও থাকতে পারে। এমনকি নোংরা এবং কম অক্সিজেনযুক্ত জলেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই মাছের। থাই মাগুর চাষে খরচ তুলনামূলক কম। অল্প সময়েই বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। সাধারণত এই মাছের গায়ের রং গাঢ় কালচে হয়। মুখের দু’পাশে লম্বা শুঁড়ের মতো অংশ থাকে। কম অক্সিজেনযুক্ত জলেও টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে সহজেই এই মাছ চাষ করা যায়। বাজারেও তুলনামূলক কম দামে মেলে। ফলে সস্তায় মাছ কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বেশি।
এই মাছ চাষে নিষেধাজ্ঞা কেন?
২০০০ সালে আফ্রিকান ক্যাটফিশ বা থাই মাগুর চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতীয় পরিবেশ আদালত। থাই মাগুর নিষিদ্ধ করার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। থাই মাগুর হল আক্রমণাত্মক বা ইনভেসিভ প্রজাতি। খেয়ে ফেলে দেশীয় মাছ। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতার কারণে নদী, পুকুরে পৌঁছে গেলে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে এই মাছ।
খাবার এবং বাসস্থানের জন্য স্থানীয় মাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশীয় ছোট মাছ খেয়ে ফেলায় জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
ক্যানসারের ঝুঁকি
এর পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চাষ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই মাছ খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে নোংরা জলে থাই মাগুর চাষ করা হয়। পচা মাংস বা মৃত প্রাণীর দেহাংশের মতো উপাদান খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। এমন পরিবেশে চাষ করা মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এই মাছ খাওয়ার আগে সাবধান!
বিহারে সতর্কতা জারি
এদিকে বিহারের পশ্চিম চম্পারণে সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন। গণ্ডক নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিহারের বিভিন্ন এলাকায় কিছু অজানা এবং অস্বাভাবিক দেখতে মাছ ভেসে আসছে বলে খবর। এই মাছ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে প্রশাসন। এই ধরনের মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, বন্যার জলের সঙ্গে ভেসে আসা মাছ দূষিত জলের সংস্পর্শে থাকতে পারে। নোংরা নর্দমা বা মৃত প্রাণীর সংস্পর্শেও এসে থাকতে পারে। প্রশাসনের মতে, এমন মাছ খেলে সংক্রমণ বা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এই ধরনের মাছ ধরা, কেনাবেচা এবং খাওয়া এড়িয়ে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধরা পড়া কিছু মাছের ওজন প্রায় ১০ কেজি থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত। বিশাল আকারের মাছ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের উৎসাহও বেড়েছে। অনেকেই মাছ ধরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বাজারে বিক্রিও করছেন বলে খবর। প্রশাসনের তরফে অস্বাভাবিক কোনও মাছ চোখে পড়লে দ্রুত খবর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আগে মাছটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দরকারে মৎস্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।