
ভারতে জ্বালানির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। এতদিন যেখানে ই২০ জ্বালানি, অর্থাৎ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে আলোচনা চলছিল, সেখানে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ই৮৫ জ্বালানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই নতুন জ্বালানিতে পেট্রোলের তুলনায় ইথানলের পরিমাণ অনেক বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।
সম্প্রতি একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই ই৮৫ জ্বালানি সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করতে পারে সরকার। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং প্রাথমিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যবহৃত ই২০ জ্বালানির তুলনায় ই৮৫ হবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি জ্বালানি গ্রেড। যেখানে ই২০-তে ইথানলের পরিমাণ সীমিত, সেখানে ই৮৫-তে তা অনেক বেশি। এর ফলে পেট্রোলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
বিশ্বজুড়ে তেলের দামের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে, তাই ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, গত এক দশকে ইথানল মিশ্রণের ফলে দেশে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি কমেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির পক্ষে সওয়াল করে আসছেন এবং ইথানলচালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। তাই দূষণ কমাতেও ই৮৫ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে এই জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের ইঞ্জিন প্রয়োজন, যাকে ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল বলা হয়। সাধারণ পেট্রোল গাড়িতে ই৮৫ ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে এবং গাড়ির পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে। তাই গাড়ি নির্মাতাদের নতুন প্রযুক্তির ইঞ্জিন তৈরি করতে হবে।
একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলিতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে। ই২০ ও ই৮৫ আলাদা রাখতে আলাদা সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ফলে অবকাঠামোগত বিনিয়োগও বাড়বে।