তেল, চিনি, ডাল...হঠাৎ হু হু করে কেন বাড়ছে দাম?আচমকা দেশজুড়ে বাড়ছে রান্নাঘরের নানা জিনিসের দাম। চিনির পাশাপাশি লাফিয়ে বেড়েছে তেল, ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম। একইসঙ্গে মহার্ঘ হয়ে গিয়েছে পেঁয়াজ ও টমেটোর মতো সবজিও। ফলে দামের ধাক্কায় রীতিমতো মাথায় হাত আমজনতার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল একাধিক জিনিসের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিলেও মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ রয়ে গেছে। গত সপ্তাহে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৭ টাকা এবং এক মাসে ১৭ টাকা বেড়েছে, ফলে দেশের বহু শহরে এখন চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চিনির দাম কমাতে সরকার কী করছে?
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার তিনটি স্তরে কাজ করছে। বাজারে সরবরাহ বাড়াতে, সরকার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়াও, মজুতদারি রোধ করতে মজুদের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে চিনিকলগুলোকে ১৫ অক্টোবর থেকে আগেভাগেই চিনি মাড়াই শুরু করতে বলা হয়েছে, যাতে নতুন ফসল আসার পর উৎসবের সময় পর্যন্ত পর্যাপ্ত চিনি পাওয়া যায়।
চিনির দাম কেন বাড়ছে?
অভিযোগ করা হয়েছে, ইথানলের কারণে চিনির দাম বাড়ছে। কিন্তু সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। সরকার জানিয়েছে মজুতদারি ও মজুতদারির ভয়ের কারণেই চিনির দাম বাড়ছে। কিছু মিল মালিক ও ব্যবসায়ী চিনি মজুত করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মজুতদারি রোধে ব্যবসায়ীদের জন্য ৪০০ টনের মজুত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্র।
পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ল?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ অগাস্ট পেঁয়াজের গড় খুচরো মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৪০.৭৯ টাকা। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ৩৬.৫৬ টাকা এবং এক মাস আগে ছিল ৩৪.৮৭ টাকা। এর মানে হলো, পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো নতুন খরিফ পেঁয়াজের ফসল আসতে দেরি হওয়া।
ডালের দাম কেন বাড়ছে?
গত এক মাসে অরহড়, মুগ এবং ছোলার মতো ডালের দাম ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বর্ষাকেই ভিলেন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডাল চাষের জমি গত বছরের তুলনায় ৩৫,০০০ হেক্টর কম। অড়হর চাষের জমি ১.৬৯ লক্ষ হেক্টর কম। এমন পরিস্থিতিতে, দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা ডালের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের দামও চড়া
আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম বেড়ে গত ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়া পাম তেলের বৃহত্তম উৎপাদক। কিন্তু সেখানেই খরা পরিস্থিতির কারণে পাম তেলের দাম বেড়েছে। পাম তেল সাধারণত রান্নার তেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারত এই তেল আমদানি করে এবং বর্তমানে আমদানি কমে যাওয়ায় এর দাম বাড়ছে।