WB Government Allowances Increased: বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল, নতুন করে ফর্ম ফিলআপ করতে হবে?

গত জুলাই মাসে সামাজিক কল্যাণ পেনশন প্রকল্পে মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করে নবান্ন। ১ অগাস্ট থেকে রাজ্যের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা—এই তিনটি প্রকল্পের উপভোক্তারা এই বাড়তি টাকা পাচ্ছেন। এবার ফের এই তিন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়ে দেন ফের বার্ধক্য ভাতা বাড়তে চলেছে। বাড়ছে বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতাও।

Advertisement
 বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল, নতুন করে ফর্ম ফিলআপ করতে হবে?আরও বাড়ছে বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা

গত জুলাই মাসে  সামাজিক কল্যাণ পেনশন প্রকল্পে মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করে নবান্ন। ১ অগাস্ট থেকে রাজ্যের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা—এই তিনটি প্রকল্পের উপভোক্তারা এই বাড়তি টাকা পাচ্ছেন। এবার ফের এই তিন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়ে দেন ফের বার্ধক্য ভাতা বাড়তে চলেছে। বাড়ছে বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতাও।

আরও ৫০০ টাকা ভাতা বৃদ্ধি
পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধ, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের জন্য বড় খবর। ইতিমধ্যেই এই তিন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। এবার আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার ঘোষণা হয়েছে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে বিজেপির প্রকাশিত নির্বাচনী সংকল্পপত্রে রাজ্যের বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর থেকেই সেই দেওয়া কথা বাস্তবে রূপায়ণ করতে তৎপরতা দেখাচ্ছে নতুন সরকার। 

কবে থেকে মিলবে বাড়তি ভাতা?
তবে এই ভাতা এখনই সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন , আগামী দিনে যোগ্য উপভোক্তাদের ধাপে ধাপে ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকার অঙ্কে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি এক বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, আগের সরকারের আমল পর্যন্ত ভাতার জন্য জমা পড়া সমস্ত পুরনো আবেদনপত্র সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। ফলে যাঁরা পূর্বে এই সুবিধার জন্য আবেদন জানিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদেরও এখন নতুন করে তা জমা দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী সোজা জানিয়ে দেন, পূর্ববর্তী জমানায় জমা পড়া কোনও আবেদন আর কার্যকর বা বৈধ বলে গণ্য হবে না, সকলকেই নতুন নিয়মে পুনর্বার ফর্ম জমা দিতে হবে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলি অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে খুঁটিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। আবেদনকারীদের প্রকৃত বয়স, তাঁদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠিগুলি প্রশাসন খতিয়ে দেখবে। সমস্ত নথি পর্যালোচনার পর স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করবে রাজ্য। অবশ্য কবে থেকে বর্ধিত ২,০০০ টাকার এই মাসিক ভাতা উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া শুরু হবে, সেই সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের কথা মুখ্যমন্ত্রী এখনই খোলসা করেননি। তবে প্রশাসনিক মহলের একটি বড় অংশের অনুমান, সমগ্র রাজ্যজুড়ে নতুন আবেদনপত্র গ্রহণ এবং তা স্ক্যান বা যাচাই করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নতুন আর্থিক বছরের শুরু অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ২,০০০ টাকার বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে পারেন রাজ্যবাসী। 

Advertisement

বার্ধক্য ভাতায় আবেদনের নিয়ম?
বার্ধক্য ভাতায় আবেদনের জন্য সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়স হতে হবে ষাট বছর। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা বয়স পঞ্চান্ন বছর হলেই আবেদনযোগ্য। সঠিক জন্মতারিখ জানা না থাকলে জন্ম সালের ১ জুলাই এবং মাস জানা থাকলে ১৬ তারিখটিকে জন্মদিন হিসেবে গণ্য করে হবে আবেদন। এছাড়া আবেদনকারীকে অন্তত টানা দশ বছর  রাজ্যে বসবাস করতে হবে। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যারা এই বার্ধক্য বিধবা কিংবা বিশেষ চাহিদা ভাতার জন্য আবেদন করবেন, তাদের আবেদন পত্রগুলি কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়ার কতখানি যোগ্যতা রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর বয়স আর্থিক অবস্থা এবং অন্যান্য যে যোগ্যতার মাপকাঠি রয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

কোথায় আবেদন?
যারা  ৬০ বছর পার করেছেন অথবা বিধবা রয়েছেন কিংবা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, তারা এখনো পর্যন্ত আবেদন না করে থাকলে সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন নির্দেশিকা অনুযায়ী যখন সরকার এই সমস্ত আবেদনের জন্য নোটিশ জারি করবে  ঠিক সে সময় তা করতে হবে। 

আবেদনের যোগ্যতা:
আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।
আবেদনকারীকে দারিদ্র্যসীমার নীচে (বিপিএল) থাকা পরিবারের সদস্য হতে হবে।
আবেদনকারীর বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র/ ডকুমেন্ট:
১) আধার কার্ডের স্ব-প্রত্যয়িত কপি
২) রেশন কার্ডের কপি
৩) ভোটার পরিচয়পত্রের কপি
৪) প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেটের কপি (প্রতিবন্ধী ভাতার উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে)
৫) আয়কর সার্টিফিকেটের কপি
৬) স্বামীর মৃত্যু সনদের কপি (বিধবা ভাতার উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে)
৭) ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি
৮) নমিনেশন ফর্ম (মৃত্যুর ক্ষেত্রে)
৯) পাসপোর্ট সাইজের ছবি

অফলাইন আবেদনের নিয়ম :
আবেদনপত্র সংগ্রহ করুন: উপযুক্ত সরকারি অফিস থেকে বিনামূল্যে ফর্মটি সংগ্রহ করুন:
১) গ্রামীণ এলাকা: বিডিও কার্যালয় অথবা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতি কার্যালয় থেকে ফর্ম সংগ্রহ করুন।
২) আবেদনপত্র জমা দিন: আবেদনপত্রটি পূরণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন।
৩) বিডিও বা পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে ফর্ম জমা দিন।

অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: উমাং অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন অথবা ওয়েবসাইটে যেতে পারেন।https://web.umang.gov.in/web_new/home
ধাপ ২: মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি ব্যবহার করে লগ ইন করতে পারবেন।
ধাপ ৩: লগ ইন করার পর, নাগরিক এনএসএপি (NSAP) অনুসন্ধান করতে হবে।
ধাপ ৪: 'অনলাইনে আবেদন করুন'-এ ক্লিক করুন।
ধাপ ০৫: প্রাথমিক তথ্য পূরণ করুন, পেনশন দেওয়ার পদ্ধতি নির্বাচন করুন, ছবি আপলোড করুন এবং 'সাবমিট' বোতামে ক্লিক করুন।

টাকা কীভাবে পাবেন?
যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে আগের মতোই Direct Benefit Transfer বা DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে। অর্থাৎ, সরকারি সুবিধার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে। 

POST A COMMENT
Advertisement