স্বাধীনতা দিবসের দেশাত্মবোধক বাংলা গান ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস। তার আগে সারা দেশে সাজো সাজো রব। বহু বলিদানের মাধ্যমে পাওয়া এই স্বাধীনতা উদযাপনের জন্য একবারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। আর এই শেষবেলায় নিজের বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে ভাই-বোন এবং গুরুজনদের ৫ বাংলা দেশাত্মবোধক গানের লাইন শেয়ার করতে পারেন। দিতে পারেন স্টেটাস। এছাড়া চাইলে প্লেলিস্টে চালিয়ে দিন গানগুলি। এভাবেই দেশের প্রতি, স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া সেই সব শহিদদের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
তাই ঝটপট তেমন কিছু গান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১. বন্দে মাতরম্, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
বন্দে মাতরম্!
সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্,
শস্যশ্যামলাং মাতরম্!
বন্দে মাতরম্!
শুভ্রজ্যোৎস্না-পুলকিত-যামিনীম্,
ফুল্লকুসুমিত-দ্রুমদলশোভিনীম্,
সুহাসিনীং সুমধুরভাষিণীম্,
সুখদাং বরদাং মাতরম্!
বন্দে মাতরম্!
কোটি কোটি কণ্ঠ কলকল নিনাদ করালে,
কোটি কোটি ভুজৈর্ধৃত খরকরবালে,
কে বলে মা তুমি অবলে!
বহুবলধারিণীং নমামি তারিণীম্,
রিপুদলবারিণীং মাতরম্!
বন্দে মাতরম্!
তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম,
তুমি হৃদি, তুমি মর্ম,
ত্বং হি প্রাণাঃ শরীরে!
বাহুতে তুমি মা শক্তি,
হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি,
তোমারই প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে।
বন্দে মাতরম্!
ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী,
কমলা কমলদলবিহারিণী,
বাণী বিদ্যাদায়িনী,
নমামি ত্বাং নমামি কমলাং,
অমলাং অতুলাম্,
সুজলাং সুফলাং মাতরম্!
বন্দে মাতরম্!
শ্যামলাং সরলাং সুস্মিতাং ভূষিতাম্,
ধরণীং ভরণীং মাতরম্!
বন্দে মাতরম্!
২. ও আমার দেশের মাটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা।
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা ॥
তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে,
তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে,
তোমার ওই শ্যামলবরন কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা ॥
ওগো মা, তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে।।
তোমার 'পরে খেলা আমার দুঃখে সুখে।
তুমি অন্ন মুখে তুলে দিলে,
তুমি শীতল জলে জুড়াইলে,
তুমি যে সকল-সহা সকল-বহা মাতার মাতা ॥
ও মা, অনেক তোমার খেয়েছি গো, অনেক নিয়েছি মা--
তবু জানি নে-যে কী বা তোমায় দিয়েছি মা!
আমার জনম গেল বৃথা কাজে,
আমি কাটানু দিন ঘরের মাঝে--
তুমি বৃথা আমায় শক্তি দিলে শক্তিদাতা ॥
৩. মুক্তির মন্দির সোপানতলে, গীতিকার মোহিনী চৌধুরী, সুরকার কৃষ্ণচন্দ্র দে
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কত প্রাণ হল বলিদান,
লেখা আছে অশ্রুজলে ।।
কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সু-প্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।।
যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি
এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।।
যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা,
মৌন-মলিন মুখে জোগালো ভাষা
আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি
বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।।
৪. ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা কোথায় উজল এমন ধারা
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি পাখির ডাকে জেগে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি
এত স্নিগ্ধ নদী তাহার কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি
পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে
তার ফুলের উপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি
ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ
ও মা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি সে যে আমার জন্মভূমি
৫. যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥
যদি কেউ কথা না কয়—(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে, সবাই করে ভয়-
তবে পরাণ খুলে’,
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা, একলা বল রে;
যদি সবাই ফিরে’ যায় —–(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—
তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা চলো রে ॥
যদি আলো না ধরে—(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি ঝড় বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে-
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥