প্যান কার্ডের নিয়মে বড় বদলের পথে কেন্দ্র।PAN card new rules 2026: প্যান কার্ডের নিয়মে বড় বদলের পথে কেন্দ্র। নয়া অর্থবর্ষে ছোট অঙ্কের লেনদেনে প্যান ব্যবহারের নিয়ম বন্ধ হতে পারে। অন্য়দিকে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে আরও কড়া নজরদারির পরিকল্পনা সরকারের। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন লাগু হলে ব্যাঙ্কিং লেনদেন, গাড়ি কেনা, হোটেল বিল বা সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ড্রাফ্ট ইনকাম ট্যাক্স রুলস ২০২৬-এ প্যান কার্ড ব্যবহারের একাধিক নিয়ম পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করাই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষত ছোট অঙ্কের লেনদেনে প্যান নম্বর দেওয়ার ঝামেলাও কমে যাবে।
তবে এই খবর নতুন নয়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট ঘোষণার পরেই এই প্রস্তাব শিরোনামে আসে। পরে Central Board of Direct Taxes (CBDT)-এর তরফে খসড়া নিয়ম প্রকাশিত হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত চাওয়া হয়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ক্যাশ ট্রানজাকশনের নিয়ম
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এক অর্থবর্ষে মোট ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা তোলার ক্ষেত্রে প্যান নম্বর আবশ্যিক করা হবে। বর্তমানে এক দিনে ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ জমা করতে গেলেই প্যান দেখাতে হয়। নতুন নিয়ম চালু হলে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়ি কিনলেই প্যান নম্বর দিতে হবে। এর ফলে কম দামের দু’চাকা বা ছোট গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্যান দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না। বর্তমানে চার চাকার গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যে কোনও দামেই প্যান দেওয়াটা বাধ্যতামূলক।
হোটেল ও অনুষ্ঠান খরচ
হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত জায়গায় ১ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হলেই প্যান নম্বর দিতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ হাজার টাকা। ফলে ছোট অনুষ্ঠান বা পারিবারিক খরচের ক্ষেত্রে আর প্যান নম্বর দিতে হবে না।
সম্পত্তি লেনদেন
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি কেনাবেচা বা গিফট ডিডের ক্ষেত্রে প্যান বাধ্যতামূলক হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ লক্ষ টাকা। ছোট শহর ও মফস্সলে সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
বিমা ও ক্রিপ্টো
নতুন খসড়া অনুযায়ী, কোনও বিমা সংস্থার সঙ্গে অ্যাকাউন্ট-বেসড ট্রানজাকশন শুরু করলেও প্যান নম্বর দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলিকেও আয়কর দফতরের সঙ্গে ডেটা শেয়ারিং বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। ডিজিটাল মুদ্রাকে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন?
কর ব্যবস্থাকে আরও তথ্যনির্ভর ও আধুনিক করাই সরকারের লক্ষ্য। ছোট লেনদেনে কড়াকড়ি কমিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে নজরদারি বাড়ানোই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য বলে মত অর্থনৈতিক মহলের।
আপাতত মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষের অপেক্ষা। তারপরেই ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন আয়কর আইন ও সংশোধিত নিয়ম লাগু হতে পারে।