EPF Interest Utility: চাকরি হারালেও EPF-এ টাকা মিলবে, সুদও পেতে থাকবেন; কী করতে হবে?EPF Interest Utility: চাকরি হারানো হোক বা নিজের ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়া, এই পরিস্থিতি কোনও কর্মীর কাছেই সহজ নয়। এমন সময় অনেকের মনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। দীর্ঘদিন ধরে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা হয়েছে, চাকরি ছাড়ার পর সেই টাকার কী হবে। বিশেষ করে অনেকেই জানতে চান, চাকরি না থাকলে পিএফের টাকায় সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় কি না।
এই বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, চাকরি ছাড়লেই পিএফ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অ্যাকাউন্টে জমা টাকার উপর আগের মতোই সুদ জমতে থাকে।
ইপিএফওর নিয়ম বলছে, কোনও সদস্য চাকরি ছেড়ে দিলেও বা কিছুদিনের জন্য বেকার থাকলেও তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার উপর সুদ পাওয়া যায়। যতদিন অ্যাকাউন্টে টাকা থাকবে এবং সদস্যের বয়স ৫৮ বছরের কম থাকবে, ততদিন ইপিএফও ঘোষিত সুদের হার অনুযায়ী সুদ যুক্ত হতে থাকবে।
ফলে চাকরি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিএফের টাকায় সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় না। তাই শুধুমাত্র চাকরি বদল বা অস্থায়ী বেকারত্বের কারণে তাড়াহুড়ো করে পিএফের টাকা তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ইপিএফওর নিয়ম অনুযায়ী ৫৮ বছর বয়সকে সাধারণত অবসরের বয়স হিসেবে ধরা হয়। এই বয়স পার হওয়ার পর পিএফ অ্যাকাউন্টে নতুন করে সুদ যোগ হয় না। তাই অবসরের পরে দীর্ঘ সময় পিএফের টাকা অ্যাকাউন্টে রেখে দিলে অতিরিক্ত সুদের সুবিধা মিলবে না।
এই কারণেই অবসরের পরে পিএফের টাকা তুলে নেওয়া বা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চাকরি চলে গেলে অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে পিএফের টাকা সম্পূর্ণভাবে কর্মীর নিজস্ব সঞ্চয়। চাকরি না থাকলেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সেই টাকার উপর সুদ জমা হতে পারে।
নতুন চাকরি পেলে পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট নতুন প্রতিষ্ঠানের পিএফ অ্যাকাউন্টে সহজেই ট্রান্সফার করা যায়। এতে সমস্ত সঞ্চয় এক জায়গায় থাকে এবং ভবিষ্যতে হিসাব রাখা অনেক সহজ হয়।
পিএফের টাকা তুলে নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি প্রয়োজন না থাকলে পিএফের টাকা দীর্ঘমেয়াদি অবসরকালীন সঞ্চয় হিসেবে রেখে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে পিএফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় তহবিল।
সংক্ষেপে বলা যায়, চাকরি ছাড়লেই পিএফের টাকায় সুদ বন্ধ হয় না। ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত পিএফ অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উপর সুদ পাওয়া যেতে পারে। নতুন চাকরি পেলে পিএফ ট্রান্সফার করা সম্ভব। অবসরের পরে সাধারণত নতুন সুদ যোগ হয় না। এছাড়া ইপিএফও পোর্টাল বা উমঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনও সময় পিএফ ব্যালান্স দেখা যায়।