
প্লাজমা বেসড ইলেক্ট্রিক স্টোভLPG গ্যাসের সঙ্কট। তার উপর দামও বাড়ছে। রান্নার গ্যাস কিনতে পকেট খালি। যদি এমন ইলেক্ট্রিক স্টোভ হয়, যা একেবারে এলপিজি সিলিন্ডারের মতোই জ্বলবে। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার খরচ বেঁচে যাবে। সেই জিনিসও বাজারে চলে এসেছে। প্লাজমা বেসড ইলেক্ট্রিক স্টোভ। এমন এক ইলেক্ট্রিক স্টোভ, যাতে একেবারে গ্যাসের মতোই আগুন।
প্লাজমা ইলেক্ট্রিক স্টোভ কী?
APAPL Electric Flame Plasma Stove হল নেক্সট জেনারেশন স্টোভ, যা এলপিজি বা পিএনজি-র বিকল্প। এটি আসলে ইনডাকশন কুকার, কিন্তু মনে হবে এলপিজি সিলিন্ডার জ্বলছে।
ব্যবহারিক সুবিধা ও সর্বজনীন উপযোগিতা
এই প্রযুক্তির সবথেকে বড় সুবিধা হল, এর বহুমুখী ব্যবহার। সাধারণ ইনডাকশন কুকারে কেবল নির্দিষ্ট কিছু চৌম্বকীয় পাত্র ব্যবহার করা যায়, কিন্তু প্লাজমা ইলেকট্রিক স্টোভে আপনি স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, তামা এমনকী মাটির পাত্রও ব্যবহার করতে পারবেন। এটি অনেকটা ওপেন-ফ্লেম রান্নার মতো হওয়ায় ভারতীয় ঘরানার রান্নার প্রতিটি পদ্ধতি। যেমন কড়াইতে ভাজাভুজি বা সরাসরি আগুনের আঁচে রুটি তৈরি, সবই এতে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।

এর নব-ভিত্তিক কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহারকারীকে ঠিক গ্যাস স্টোভের মতোই, ফলে বয়স্কদের কাছেও এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। এটি কোনও ধোঁয়া বা কালি উৎপন্ন করে না, তাই আপনার শৌখিন মডুলার কিচেন থাকবে সবসময় ঝকঝকে এবং পরিষ্কার।
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধান
বর্তমান সময়ে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন প্লাজমা স্টোভ একটি দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই স্টোভগুলি ৮০-৯০ শতাংশেরও বেশি তাপ দক্ষ, যার অর্থ হল, খুব সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে এটি দ্রুত রান্না হবে। বিশেষ করে ভারত সরকারের 'পিএম সূর্য ঘর যোজনা' বা সোলার প্যানেল প্রকল্পের সঙ্গে এই স্টোভ যুক্ত করলে রান্নার খরচ প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। কোনও গ্যাস লিক হওয়ার ভয় নেই। তাই এটি বহুতল আবাসন বা ছোট ফ্ল্যাটের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। এর উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থায় অটো শাট-অফ এবং ওভারহিট প্রোটেকশন থাকে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে দেয় কয়েক গুণ।
ভবিষ্যতের বাজারের দিশারি
যদিও বর্তমানে এই প্লাজমা স্টোভের দাম (প্রায় ৩৫,০০০ টাকা) সাধারণ গ্যাস স্টোভ বা ইনডাকশনের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবুও এর স্থায়িত্ব এবং বহুমুখী সুবিধার কথা বিবেচনা করলে এটি একটি লাভজনক বিনিয়োগ। বর্তমানে এটি বড় রেস্তোরাঁ, ক্লাউড কিচেন এবং আধুনিক বাড়িতে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে এর দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করা যায়।