PM Fasal Bima Yojana: বন্যায় ক্ষতিতে মিলবে টাকা, PM ফসল বিমা যোজনায় এভাবে আবেদন করুন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

লাগাতার বৃষ্টি চলছে। ডিভিসির জলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। দুশ্চিন্তা বাড়ছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-পাড়ে। মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ পাড়েও জারি সতর্কতা। এদিকে নেপালের বিপর্যয়ের পর উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলাতেও রয়েছে সতর্কতা। তাই রাজ্য প্রশাসনের তরফে মূলত উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে দার্জিলিং,কালিম্পং জলপাইগুড়ি,কোচবিহার ও কার্শিয়াং। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা কৃষকদের সবচেয়ে ভরসাস্থল হতে পারে।

Advertisement
বন্যায় ক্ষতিতে মিলবে টাকা, PM ফসল বিমা যোজনায় এভাবে আবেদন করুন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেকীভবে ক্ষতিপূরণ পাবেন কৃষকরা? জানুন বিস্তরিত

লাগাতার বৃষ্টি চলছে। ডিভিসির জলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। দুশ্চিন্তা বাড়ছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-পাড়ে। মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ পাড়েও জারি সতর্কতা। এদিকে নেপালের বিপর্যয়ের পর উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলাতেও রয়েছে সতর্কতা। তাই রাজ্য প্রশাসনের তরফে মূলত উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে দার্জিলিং,কালিম্পং জলপাইগুড়ি,কোচবিহার ও কার্শিয়াং। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা কৃষকদের সবচেয়ে ভরসাস্থল হতে পারে। আর এই পরিস্থিতিতেই  রাজ্যের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। অগাস্টের শেষে রাজ‌্যকে সম্মতিসূচক চিঠি পাঠিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রক। চলতি বছরের খরিফ মরসুমে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় ঋণগ্রহীতা এবং যাঁরা ঋণ নেননি, সব কৃষকরাই ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন।   তাই আগ্রহী কৃষকদের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা কী?
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প শুরু করে। দীর্ঘ টালবাহানা পর বাংলায় এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কীটপতঙ্গ বা রোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি হলে প্রশাসন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। অবশ্য তার কিছু মাপকাঠি আছে। সেই শর্তগুলি পূরণ করলেই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

কবে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে?
চলতি বছরের খরিফ মরসুমে এই প্রকল্পে সব কৃষকেরাই (যাঁরা ঋণ নিয়েছেন এবং ঋণ নেননি) ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় পাবেন। কিছু সমস্যার কারণে এ বার কৃষকদের নাম নথিভুক্তির হার তুলনায় বেশ খানিকটা কমেছে। সেই কারণেই রাজ্য কেন্দ্রের কাছে এই আর্জি জানিয়েছিল। তাতে সম্মতির পাশাপাশি, কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যত কৃষক নাম নথিভুক্ত করবেন, সেই সময়ে কেন্দ্রের অংশের বিমা-প্রিমিয়ামও পরিশোধ করা হবে। প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকার এই প্রকল্প থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

Advertisement

 চলতি খরিফ মরশুমে দেরিতে বীজ বপন, অস্বাভাবিক আবহাওয়া এবং একাধিক জেলায় বন্যা হয়েছে বাংলায়। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধান ও ভুট্টা-সহ বিজ্ঞাপিত সমস্ত ফসলের জন্য কৃষকরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফসল বিমার আওতায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের ক্রপ ইন্স্যুরেন্স ডিভিশনের জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দফতর গত ২৫ অগাস্ট সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিল। সেই আবেদনে বলা হয়েছিল, বিজ্ঞপ্তি জারিতে দেরি, বিরূপ আবহাওয়া সহ নানা সমস্যার কারণে বহু কৃষক এখনও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনা করে এবং প্রকল্পে যুক্ত চারটি বিমা সংস্থার সম্মতির ভিত্তিতেই কেন্দ্র সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা উপকৃত হবেন। প্রত্যেক চাষিই যাতে বিমা করাতে পারেন, সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে
বন্যা কিংবা শিলাবৃষ্টির মতন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর বিমার জন্য কাগজের ফর্ম নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ছোটাছুটি করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) এবার ফোনের মাধ্যমেও সম্ভব। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে। এখন স্মার্টফোনে ক্রপ ইন্সুরেন্স (Crop Insurance) অ্যাপ ব্যবহার করেই বিমার জন্য নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এই সুযোগ পেতে কৃষকদের মাত্র দিতে হবে মাত্র ১ টাকা। আবেদন করার শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে কিন্তু এই সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে জমা দিতে হবে কোন কোন তথ্য?
আবেদন করতে প্রথমে মোবাইলের প্লে স্টোর থেকে সব ইন্স্যুরেন্স অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপে ঢুকে লগইন (login) অপশন বেছে নিয়ে সেখানে মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে নিজের নাম, আধার নম্বর, বয়স, লিঙ্গ, অভিভাবকের নাম-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। জমি নিজের হলে ফার্মার টাইপ হিসেবে ওনার (Owner) বেছে নিতে হবে। ঠিকানা, জেলা, ব্লক ও গ্রামের তথ্য ইত্যাদি দেওয়ার পাশাপাশি নমিনির বিবরণ এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও এখানে যুক্ত করতে হবে। IFSC কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সঠিকভাবে দেওয়ার পর OTP দিয়ে আরো একবার যাচাই করে নিতে হবে। এরপর অ্যাপের PMFBY ইন্স্যুরেন্স বিভাগে গিয়ে রাজ্য, মরশুম ও বছর নির্বাচন করতে হবে। জমিটি যে জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত ও মৌজায় রয়েছে, সেই তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি ফসলের ধরন, ফসলের নাম এবং রোপণের তারিখ এই সমস্ত কিছু উল্লেখ করতে হবে। খাতা নম্বর এবং প্লট নম্বরও দিতে হবে। এগুলি দেওয়ার সময় কোন রকম ভুল করলে চলবে না। একাধিক দাগ নম্বর থাকলে কমা দিয়ে সেগুলি লিখতে হবে। সব তথ্য জমা দেওয়ার পর জমির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য বিমার অঙ্ক অ্যাপেই দেখাবে। আবেদনের শেষ ধাপে ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার একটি পরিষ্কার ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। জমির পরচা ও সোয়িং সার্টিফিকেট থাকলে দেওয়া যেতে পারে, তবে এগুলি ঐচ্ছিক অর্থাৎ না দিলেও সমস্যা নেই। সব তথ্য যাচাই করে প্রসিড ফর পেমেন্ট (Proceed for Payment)-এ গিয়ে UPI QR-এর মাধ্যমে মাত্র ১ টাকা প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। পেমেন্ট সম্পূর্ণ হলে PDF আকারে রসিদ পাওয়া যাবে, সেটি ডাউনলোড করে রেখে দিতে হবে। এই প্রকল্পে মাত্র ১ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে সর্বোচ্চ ১৩,৭৯৩ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই আগ্রহী কৃষকদের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement