প্রবীণদের জন্য পোস্ট অফিস স্কিমপ্রতিটি ব্যক্তি তাঁর নিজের উপার্জন থেকে কিছু সঞ্চয় (Savings) করে সেই টাকা এমন কোনও জায়গায় বিনিয়োগ (Investment)-এর পরিকল্পনা করে থাকেন, যেখানে তাঁর সঞ্চিত অর্থ যাতে সুরক্ষিত থাকার সঙ্গে ভাল ধরনের রিটার্নও পাওয়া যায়। আবার অনেকেই আছেন, যাঁরা অবসর নেওয়ার পর জীবনে আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সমাধানও খোঁজেন। সেক্ষেত্রে, পোস্ট অফিস দ্বারা পরিচালিত সরকারি প্রকল্পগুলো একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। পোস্ট অফিসের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এমনই একটি প্রকল্প রয়েছে, যা অবসরের পর নিয়মিত আয় নিশ্চিত করে এবং একটি আরামদায়ক বার্ধক্য যাপনের সুযোগ করে দেয়। আমরা পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)-এর কথা বলছি, যার মাধ্যমে আপনি বিনিয়োগের মাধ্যমে বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন এবং প্রতি তিনমাস অন্তর তা তুলেও নিতে পারবেন।
ঝুঁকি ছাড়া আকর্ষণীয় সুদ
পোস্ট অফিস সেভিংস স্কিমগুলোকে জনপ্রিয় করে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হলো, এই প্রকল্পগুলোর অধীনে করা ছোট বা বড় প্রতিটি বিনিয়োগের সুরক্ষার নিশ্চয়তা সরকার নিজেই দিয়ে থাকে। সরকারি স্কিমগুলোর অধীনে করা ছোট বা বড় প্রতিটি বিনিয়োগের সুরক্ষার নিশ্চয়তা সরকার নিজেই দিয়ে থাকে। সরকারি স্কিম পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংসে প্রদত্ত সুদের ক্ষেত্রে, এমনকি ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটও (FD) পিছিয়ে পড়ে। সরকার POSCSS-এ বিনিয়োগের উপর ৮.২ শতাংশের একটি চমৎকার সুদের হার প্রদান করছে। আপনি যেকোনো নিকটস্থ পোস্ট অফিসে সহজেই একটি SCSS অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।
কত টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করা যায়
পোস্ট অফিস পরিচালিত এই সরকারি প্রকল্পে আপনি মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। এই প্রবীণ নাগরিক সঞ্চয় প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা হলো ৩০ লক্ষ টাকা। অবসর গ্রহণের পর আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে পোস্ট অফিসের এই প্রকল্পটি কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্যতা
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো ব্যক্তি অথবা স্বামী বা স্ত্রীর সাথে একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলা যেতে পারে। বয়সের সীমার ক্ষেত্রে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিলতার বিধান রয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভিআরএস আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ৫৫ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম হতে হবে। ৫০ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীরা বিনিয়োগ করতে পারেন।
৫ বছরের মেয়াদপূর্তি, তর ছাড়ের সুবিধা
পোস্ট অফিসের এই স্কিমটি শুধু নিয়মিত আয় এবং একটি নিরাপদ বিনিয়োগই প্রদান করে না, বরং কর সুবিধাও দিয়ে থাকে। POSCSS-এর বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের জন্য যোগ্য। পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন স্কিমে বিনিয়োগের মেয়াদ পাঁচ বছর, অর্থাৎ এই স্কিমের সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে আপনাকে পাঁচ বছর বিনিয়োগে থাকতে হবে। যদি কোনো বিনিয়োগকারী এই সময়ের আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেন, তাহলে অ্যাকাউন্টধারীকে জরিমানা দিতে হবে।
বার্ষিক ২.৪৬ লক্ষ টাকা আয় কী করে
যদি কোনো ব্যক্তি পোস্ট অফিস SCSS-এর একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে ৮.২% সুদের হারে তিনি শুধুমাত্র সুদ থেকেই বার্ষিক ২,৪৬,০০০ টাকা আয় করবেন। এই টাকা পাঁচ বছরের মেয়াদপূর্তির তারিখ পর্যন্ত প্রতি বছর প্রদান করা হবে। যার পরে তিনি বিনিয়োগ করা সম্পূর্ণ ৩০ লক্ষ টাকা তুলে নিতে পারবেন। বিনিয়োগকারীরা চাইলে তাদের বিনিয়োগের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়াতে পারেন। এই সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের উপর প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ প্রদান করা হয়। ফলে, তিন মাসে অর্জিত সুদের পরিমাণ হবে ৬১,৫০০ টাকা।
পোস্ট অফিসের এসসিএসসি বিনিয়োগের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একবার বিনিয়োগ করলে, সরকার পরবর্তীতে ত্রৈমাসিক সংশোধন অনুযায়ী সুদের হার পরিবর্তন করলেও সম্পূর্ণ মেয়াদকাল জুড়ে একই সুদের হার প্রযোজ্য থাকে। এছাড়াও, যদি অ্যাকাউন্টধারী মেয়াদকালের আগে মারা যান, তাহলে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ অর্থ নথিপত্রে উল্লিখিত মনোনীত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।