Post Office Recurring Deposit 2026: ৩৩৩ টাকা করে জমিয়েই পান ১৭ লক্ষ, পোস্ট অফিসই দিচ্ছে ভরসাPost Office Recurring Deposit 2026: ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চিন্ত সঞ্চয় মানেই বাঙালির প্রথম পছন্দ ডাকঘর বা পোস্ট অফিস। চড়া বাজারের এই সময়ে বড় অঙ্কের টাকা একলপ্তে জমানো মধ্যবিত্তের কাছে কার্যত দুঃসাধ্য। কিন্তু প্রতিদিনের হাতখরচ থেকে সামান্য কিছু টাকা বাঁচিয়ে যদি কয়েক বছরের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকার মালিক হওয়া যায়, তবে মন্দ কী? সরকারি গ্যারান্টি আর নিশ্চিত মুনাফার হাতছানি নিয়ে পোস্ট অফিসের ‘রেকারিং ডিপোজিট’ বা আরডি (RD) স্কিম এখন সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মাত্র ৩৩৩ টাকা থেকে বিনিয়োগ শুরু করে কীভাবে ১৭ লক্ষ টাকার তহবিল গড়া সম্ভব, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
অল্প সঞ্চয়ে বড় তহবিল
পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর ওপর মানুষের অগাধ বিশ্বাস থাকার প্রধান কারণ হলো সরকারি নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট সুদের হার। বর্তমানে আরডি স্কিমে ত্রৈমাসিক চক্রবৃদ্ধি হারে বার্ষিক ৬.৭০ শতাংশ সুদ মিলছে। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে পড়ুয়ারাও এই স্কিমের সুবিধা নিতে পারেন। এমনকি ১০ বছরের বেশি বয়সী নাবালকদের নামেও অভিভাবকরা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমেও এই সঞ্চয় প্রকল্প চালু করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, নাবালকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করা বাধ্যতামূলক।
১৭ লক্ষ টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছোঁবেন কীভাবে?
অঙ্কটা শুনতে বড় মনে হলেও হিসাবটা বেশ সহজ। যদি কোনও ব্যক্তি প্রতিদিন ৩৩৩ টাকা করে সঞ্চয় করেন, তবে মাসে তাঁর লগ্নির পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ হাজার টাকা। এইভাবে প্রথম পাঁচ বছরে মোট ৬ লক্ষ টাকা জমা পড়বে। বর্তমান সুদের হারে পাঁচ বছর শেষে লগ্নিকারীর মুনাফা হবে প্রায় ১.১৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছর পর আপনার হাতে থাকবে ৭ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।
আসল জাদু লুকিয়ে রয়েছে এই মেয়াদের বৃদ্ধিতে। আপনি যদি আরও পাঁচ বছরের জন্য এই আরডি-র মেয়াদ বাড়িয়ে নেন, তবে ১০ বছরে আপনার মোট জমা হবে ১২ লক্ষ টাকা। সুদের হার ও সময়ের গুণে ১০ বছর শেষে মোট সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫.০৮ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মেয়াদপূর্তিতে আপনার হাতে আসবে ১৭ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। যারা মাসে ৫ হাজার টাকা করে জমাবেন, তাঁরাও ১০ বছর শেষে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা পেতে পারেন। বাজারের অস্থিরতা থেকে দূরে থেকে নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য এই স্কিম যে মধ্যবিত্তের আদর্শ ‘লক্ষ্মীলাভের’ পথ, তা বলাই বাহুল্য।