পোস্ট অফিসের সেরা স্কিমঅনেক বিনিয়োগকারীই আছেন, যারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না। কিন্তু উচ্চ সুদের লাভদায়ক স্কিমের খোঁজে থাকেন। তাদের জন্য আদর্শ হতে পারে পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলি। কোনও ঝুঁকি ছাড়াই উল্লেখযোগ্য লাভ পাওয়া যায় এই স্কিমগুলি থেকে। সুদ মেলে বার্ষিক ভিত্তিতে, যা প্রতি তিন মাস অন্তর নির্ধারিত হয়। পোস্ট অফিসের সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল পোস্ট অফিস রিকারিং ডিপোজিট (Post Office RD) স্কিম। এতে বিনিয়োগ করে গ্রাহকরা শুধুমাত্র সুদ বাবদই সর্বোচ্চ ৪.৪০ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন।
১০০ টাকা দিয়ে চালু করুন
পোস্ট অফিস আরডি স্কিমে ৬.৭% হারে সুদ দেওয়া হয়। এই স্কিমে বিনিয়োগের জন্য বেশি টাকার দরকার নেই, মাত্র ১০০ টাকা দিয়েই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ তাদের নিকটতম পোস্ট অফিসে গিয়ে আরডি স্কিমের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
এই স্কিমের বিশেষত্ব
এই স্কিমের বিশেষত্ব হলো, এতে প্রতি মাসে অল্প পরিমাণে বিনিয়োগ করা যায়, ফলে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিনিয়োগের চাপ মাথা থেকে সরে যায় এবং ধীরে ধীরে জমা অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পোস্ট অফিস আরডি স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে, এটিকে আরও পাঁচ বছর বাড়ানো যায়। এভাবে আরও বেশি সুবিধা পাওয়া যায় এবং অল্প সঞ্চয়ের দিয়েই বড় ফান্ড তৈরি করা যায়।
ঋণ নেওয়ার সুবিধা
শুধু তাই নয়, পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। এই ঋণ জমা দেওয়া অর্থের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। অ্যাকাউন্ট চালু করার এক বছর পর গ্রাহক এই সুবিধা নিতে পারেন এবং এক বছরের মধ্যে ২% সুদের হারে জমা করা অর্থের ৫০% পর্যন্ত ঋণ মেলে।
সুদের পরিমাণ
যদি কোনো গ্রাহক প্রতিদিন ৩০০ টাকা সঞ্চয় করেন, তাহলে তিনি প্রতি মাসে ৯,০০০ টাকা পোস্ট অফিসের আরডি প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। পাঁচ বছর পর মেয়াদ পূর্ণ হলে, ওই জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫.৪০ লক্ষ টাকা, কিন্তু মোট মূলধন ৬ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হলে গ্রাহকের জমার পরিমাণ হবে ১০.৮০ লক্ষ টাকা হলেও, মূলধন বেড়ে ১৫.২০ লক্ষ টাকায় পৌঁছাবে। প্রতিদিন ৩০০ টাকা এবং মাসিক ৯,০০০ টাকা আরডি স্কিমে জমা করে ১০ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০,৮০,০০০ টাকা। মেয়াদ পূরণের পর মোট প্রাপ্তির পরিমাণ হবে ১৫,২০,৮৮৯ টাকা, যার মধ্যে সুদ হিসেবে মিলবে ৪,৪০,৮৮৯ টাকা।