পোস্ট অফিস স্কিমআপনি কি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন? আপনার টাকা নিরাপদে রাখতে এবং ভাল রিটার্ন পেতে চান? তাহলে পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলি আপনার জন্য দুর্দান্ত অফার হতে পারে। সরকার ভারতীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সকল বয়সের জন্য সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ রেখেছে। যা ছোট বা বড়, প্রতিটি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এরকমই একটি প্রকল্প হল, পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম। যেখানে আপনি প্রতিদিন মাত্র ৪০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ লক্ষ টাকার একটি উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পেতে পারেন।
সম্পূর্ণ হিসেব বুঝে নিন...
পোস্ট অফিস সেভিংস স্কিমের (POSDS) সুদের হার প্রতি ৩ মাস অন্তর সংশোধন করা হয়। সরকার ৫ বছরের বিনিয়োগের জন্য ৬.৭% সুদের হার অফার করে। মাত্র ১০০ টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা যেতে পারে। এই সরকারি স্কিমে নিয়মিত ছোট বিনিয়োগ যথেষ্ট পরিমাণ টাকা জমাতে সাহায্য করবে।
কারা অ্যাকাউন্ট খুলত পারবেন, মেয়াদ কত বছর?
১০ বছর বয়সী একজন নাবালকও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। তবে নাবালক তার মা-বাবার সাহায্য নিয়ে তবেই অ্যাকাউন্টটি খুলতে পারবে। ১৮ বছর বয়স হয়ে গেলে তারা তাদের KYC আপডেট করে এবং একটি নতুন ফর্ম জমা দিয়ে নিজেরাই অ্যাকাউন্ট চালাতে পারবে। পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর। তবে বিনিয়োগকারীরা চাইলে এটি আরও ৫ বছর বাড়াতে পারবেন।
অতিরিক্ত অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগকারীর ইচ্ছে অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির আগে স্কিমটি বন্ধ করার অফার। বিনিয়োগকারীরা ৩ বছর পর আগে বন্ধ করে দিতে পারেন অ্যাকাউন্টটি। অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যুপ ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি সুবিধা দাবি করতে পারেন এবং ইচ্ছে করলে এটি চালিয়েও যেতে পারেন।
সরকার ঋণের সুবিধাও দেয়
সরকারি স্কিমগুলি কেবল চমৎকার রিটার্নই নয়, বরং আরও অনেক সুবিধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এই পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগকারীদের ঋণের সুবিধা দেওয়াহয়। এর অধীনে এক বছর অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রাখার পর জমা পরিমাণের ৫০% পর্যন্ত নেওয়া যেতে পারে। যার উপর ২% হারে সুদ প্রযোজ্য। নিকটতম যে কোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে এই স্কিমের অধীনে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
৪০০ টাকা জমিয়ে ২০ লক্ষ রিটার্ন কীভাবে?
এই সরকারি স্কিমে নিয়মিত ৪০০ টাকা বিনিয়োগ করে ২০ লক্ষ টাকা রিটার্ন পেতে পারেন। হিসেবটি বেশ সহজ। পোস্ট অফিস রেকারিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে যদি একজন বিনিয়োগকারী প্রতিদিন ৪০০ টাকা সঞ্চয় করেন। তাহলে প্রতি মাসে তার পরিমাণ হবে ১২ হাজার টাকা। যদি তিনি এই পরিমাণ টাকা এই স্কিমে বিনিয়োগ করেন তাহলে ৫ বছর মেয়াদের পর তার তহবিল হবে ৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৮৮ টাকা।
যদি বিনিয়োগকারী আরও ৫ বছরের জন্য তার বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেন, তাহলে এই সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ হবে ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার। যেখানে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ হবে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার ২৪৮ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২৪৮ টাকার সুদ।
(বিঃদ্রঃ- যে কোনও বিনিয়োগ করার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি)