পোস্ট অফিস স্কিমধনী হওয়া কোনও কঠিন কাজ নয়। দরকার শুধু সঠিক প্ল্যানিংয়ের। এই যেমন নিয়মিত অল্প অল্প টাকা জমিয়েই আপনি বিরাট ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স গড়ে তুলতে পারেন। আর সেটাও সম্ভব শেয়ারমার্কেটে বিনিয়োগ না করে। ভাবছেন কী বলছি? তাহলে শুনুন, পোস্ট অফিসের এমন একটি স্কিম রয়েছে যাতে দিনে মাত্র ২০০ টাকা বিনিয়োগ করেই ১০ লক্ষ টাকার বেশি রিটার্ন পেতে পারেন।
সরকার ৬.৭ শতাংশ সুদ দিচ্ছে...
ভাল রিটার্ন পেতে চাইলে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম করতে হবে। তার আগে অবশ্য ১০০ টাকা দিয়ে একটা অ্যাকউন্ট খুলে নিন। এরপর শুরু করে দিন বিনিয়োগ।
মনে রাখবেন, পোস্ট একটি সরকারি সংস্থা। এখানে টাকা রাখলে ঝুঁকি কম। কারণ, সরকার নিজেই এখানে রাখা টাকার গ্যারান্টি নেয়। তাই চাইলে নিশ্চিন্তে এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ৬.৭ শতাংশ হারে মিলবে সুদ।
৫ বছরে হবে ম্যাচুরিটি
এই স্কিম একবার চালু করলে ৫ বছর চালানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, এর ম্যাচুরিটি হল ৫ বছর। আর ৫ বছর পর আপনি আরও ৫ বছরের জন্য এর মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন। যার মাধ্যমে জমে যাবে অনেকগুলো টাকা।
যে কোনও ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ অ্যাকাউন্ট খুলে তারপর বিনিয়োগ শুরু করে দিতে পারেন। নিজের কাছের পোস্ট অফিসেই এই পরিষেবা পাবেন।
লোনও মিলবে
এমনটা হতেই পারে যে আপনার হঠাৎ করে কোনও লোনের প্রয়োজন পড়ল। আর সেক্ষেত্রেও এই স্কিম থেকে সুবিধা পাবেন।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই স্কিমে ১ বছর টাকা জমা রাখার পরই ৫০ শতাংশ টাকা লোন নিতে পারেন। এক্ষেত্রে মাত্র ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
প্রিম্যাচিওর ফেসিলিটিও রয়েছে
রেকারিং ডিপোজিটে ৫ বছর টাকা রাখা অনেকের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি মেয়াদের আগেই টাকা তুলে নিতে পারেন। এটাই হল প্রিম্যাচিওর ফেসিলিটি।
এছাড়া স্কিমটা যাঁর নামে চলছে, তাঁর যদি মৃত্যু হয়, তাহলে নমিনি সেই টাকাটা তুলে ফেলতে পারবেন।
কীভাবে ২০০ টাকা জমিয়ে ১০ লাখ পাবেন?
খুব সহজ হিসেব। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ২০০ মানে মাসে ৬০০০ টাকা। এটা আপনি রেকারিং ডিপোজিটে রাখুন। যখন ম্যাচিউরিটি আসবে তখন জমিয়ে ফেলবেন ৩৬০০০০ টাকা। আর ইন্টারেস্ট পাবেন ৬৮১৯৭ টাকা। এর ফলে আপনার জমবে ৪২৮১৯৭ টাকা।
এরপর আপনি ৫ বছরের জন্য স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। তাতে ১০ বছরে জমে ৭.২০ লাখ। পাশাপাশি ইন্টারেস্ট পাবেন ২০৫১৩১ টাকা। যার ফলে ১০ বছর পর আপনার হাতে আসবে ১০২৫১৩১ টাকা।