রেলের টিকিটের নিয়মপ্রতিবছর ভারতীয় রেলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। উৎসবের সময়, ছুটির সময় তো ভিড় আরও বাড়ে। আর এই সব সময় কর্পূরের মতো উড়ে যায় এসি টিকিট। তখন অনেকেই স্লিপার ক্লাসে যাত্রা করতে বাধ্য হন।
যদিও ভাল খবর হল, স্লিপার টিকিট নিয়েই অনেক সময় এসিতে ট্রাভেল করা যায়। সেক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। আর সেই নিয়মগুলিই আমাদের জানালেন একজন টিটিই।
টিটিই-এর সঙ্গে কথা বলে সিট পেতে পারেন...
এসি কোচে সিট যদি থাকে, তাহলে আপনি স্লিপারের টিকিট নিয়েও উঠতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীকে টিটিই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাঁকে সিট আপগ্রেড করার জন্য করতে হবে অনুরোধ।
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীকে স্লিপার কোচ এবং এসি কোচের ভাড়ায় যে পার্থক্য রয়েছে, সেটা মিটিয়ে দিতে হবে।
একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক। ধরুন আপনি স্লিপার কোচের টিকিট কেটেছেন। তার ভাড়া ৫০০ টাকা। আর সেই একই দূরত্বের এসি ৩ টিয়ারের ভাড়া ১২০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ৭০০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। সেটা দিলেই যাত্রীকে এসিতে সিট দেবেন টিটিই।
যদিও এই সুযোগ তখনই মিলবে, যখন এসি কামড়ায় ফাঁকা থাকবে সিট। সেটা ফাঁকা না থাকলে মিলবে না।
টিকিট ছাড়া এসি কামড়ায় যাত্রা করলেই বিপদ
টিটিই জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনও যাত্রী যদি নিজের বুদ্ধিতে এসি কামড়ায় পৌঁছে যান, তাহলে সমস্যা হতে পারে। অনুমতি না নিয়ে এসি কোচে যাত্রা করলে জরিমানা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি ভাড়া তো দিতেই হবে, পাশাপাশি লাগবে পেনাল্টি। এখানেই শেষ নয়, টিটিই চাইলে সেই যাত্রীকে পরবর্তী স্টেশনেই স্লিপার কোচে পাঠিয়ে দিতে পারেন। তাই এই ভুল একবারেই করবেন না।
টিটিই আরও জানিয়েছেন, অনেক সময় ভিড় থাকে খুব বেশি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী এসি কোচে দাঁড়িয়ে যেতে চান। এক্ষেত্রে টিটিই যদি মনে করেন যে জায়গা রয়েছে, তাহলে বাড়তি টাকা নিয়ে তাঁকে বসতে দেওয়া যেতে পারে। যদিও কোনও জায়গা ফাঁকা না থাকলে সেই যাত্রীকে নেমে যেতেই হবে।
রেলের নিয়ম কী বলছে?
রেল জানাচ্ছে, যাত্রীকে সেই কামড়াতেই যাত্রা করতে হবে, যেখানে তিনি টিকিট কেটেছেন। যার সহজ অর্থ হল একজন যাত্রী নিজের ইচ্ছেতে স্লিপারের টিকিট কেটে এসিতে যেতে পারেন না। এটা নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ।
যদিও রেলের একটা অটো-আপগ্রেড অপশন রয়েছে। এই অপশন সিলেক্ট করা থাকলে, সিট ফাঁকা থাকলে নিজের থেকেই টিকিট আপগ্রেড হয়ে যাবে।