রথে ব্যাঙ্ক বন্ধ? বৃহস্পতিবার বাঙালির অন্যতম ধর্মীয় উৎসব, রথযাত্রা। এই উৎসব প্রতি বছরই ধুমধাম করে পালিত হয়। পুরীর জগন্নাথধামের পাশাপাশি এই রাজ্যেও রথযাত্রায় সামিল হন অসংখ্য ভক্ত। মাহেষের রথ, ইসকনের অনুষ্ঠান কিংবা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে রথের রশিতে টান, পুণ্যার্থীরা জড়ো হবেন সকাল থেকেই। তবে এর মাঝেই সকলের প্রশ্ন, রথযাত্রার দিন কি পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে, নাকি অন্যান্য সরকারি ছুটির মতো ব্যাঙ্কও বন্ধ থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং রাজ্য সরকারের ছুটির তালিকায়।
রথে কি পশ্চিমবঙ্গে কি ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে?
উত্তর হল, না। রথযাত্রার দিন পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে না, আর ৫টা স্বাভাবিক দিনের মতোই খোলা থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ছুটির তালিকায় রথযাত্রা এনআই অ্যাক্ট (NI Act)-এর অধীনে পড়ে না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রথযাত্রার দিনটিকে 'সেকশনাল হলিডে' (Sectional Holiday) বা নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের জন্য সীমিত ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সাধারণ পাবলিক হলিডে বা ব্যাঙ্ক ছুটির আওতায় আসে না। ফলে রাজ্যের সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি এবং সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে অন্যান্য সাধারণ কর্মদিবসের মতোই স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে।
প্রতিবেশী রাজ্যে চিত্রটা ভিন্ন
পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক খোলা থাকলেও, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় কিন্তু ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা বিশ্ববিখ্যাত হওয়ায় ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে ওই দিনটিতে সম্পূর্ণ ব্যাঙ্ক ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওড়িশা ছাড়াও ভারতের আরও বেশ কিছু রাজ্য, যেখানে রথযাত্রা বড় উৎসব হিসেবে পালিত হয় (যেমন গুজরাত), সেখানেও রথযাত্রার দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে।
গ্রাহকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
যদিও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক খোলা থাকছে, তবুও রথযাত্রার দিন রাস্তাঘাটে ভিড় বা যানজটের কারণে সশরীরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তাই জরুরি লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং: ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত রকম ফান্ড ট্রান্সফার (NEFT, RTGS, IMPS) স্বাভাবিক থাকবে।
এটিএম পরিষেবা: টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার জন্য রাজ্যের সমস্ত এটিএম (ATM) ও ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন সচল থাকবে।
ইউপিআই (UPI): গুগল পে, ফোন পে বা পেটিএম-এর মতো ইউপিআই পরিষেবাও যথারীতি কাজ করবে।
অতএব, রথযাত্রার দিন ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত কোনও জরুরি কাজ থাকলে নিশ্চিন্তে তা সেরে নিতে পারেন। তবে দূরবর্তী কোনও ব্রাঞ্চে যাওয়ার আগে স্থানীয় ট্রাফিক ও রথের শোভাযাত্রার রুটটি একবার দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।