এক ঘণ্টার মধ্যে চাইলে এটিকে 'ক্যানসেল'ও করতে পারবেন। এমনই প্রস্তাব।RBI new rules 2026: কেউ আপনাকে ভুলভাল বোঝাল। আপনিও অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা পাঠিয়ে দিলেন।অথচ পর মুহূর্তেই নিজের ভুলটা বুঝতে পারলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। আজকাল প্রায়শই এমন অভিজ্ঞতার কথা শোনা যায়। সাইবার জালিয়াতির এই বাড়বাড়ন্ত রুখতেই বড় প্রস্তাব দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। এবার থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার সঙ্গে-সঙ্গে হবে না। ১ ঘণ্টা পর হবে। এই এক ঘণ্টার মধ্যে চাইলে এটিকে 'ক্যানসেল'ও করতে পারবেন। পোশাকি ভাষায় 'কুলিং পিরিয়ড' বলা হচ্ছে। এর ফলে চট করে অ্যাকাউন্ট খালি করার সুযোগ কমে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
RBI-র প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মূলত ‘অথরাইজড পুশ পেমেন্ট’ (APP) জালিয়াতি ঠেকাতে এই নিয়ম কাজে লাগতে পারে। এই ধরনের প্রতারণায় গ্রাহকদের নানা প্রলোভন বা ভুয়ো তথ্য দিয়ে নিজেকেই টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য করা হয়। ফলে টাকা পাঠানোর পর তা আর ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে থাকলে গ্রাহক চাইলে সেই ট্রানজাকশন ক্যানসেলও করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলিও সন্দেহজনক ট্রানজাকশন দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরে ক্যানসেল করে দিতে পারবে।
শুধু তাই নয়, ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও একটা সিকিউরিটির লেয়ার বানানোর প্রস্তাব দিয়েছে RBI। এক্ষেত্রে কোনও 'বিশ্বস্ত ব্যক্তি'র অনুমোদন বা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হবে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য আজকাল 'মিউল অ্যাকাউন্ট'ও ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে জালিয়াতরা হঠাৎ অনেক টাকা এনে জমা করেন। এই ধরনের সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের উপর এবার থেকে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বছরে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা রাখার সীমাও চাপানো হতে পারে। এর বেশি হলে 'এনহ্যান্সড ডিউ ডিলিজেন্স' বা অতিরিক্ত নজরদারি করে লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়াও গ্রাহকদের হাতে আরও নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে গ্রাহকরা যেন নিজেরাই লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন, প্রয়োজনে অন-অফ করতে পারেন এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে সব লেনদেন বন্ধ করার জন্য 'কিল সুইচ' ব্যবহার করতে পারেন, এমন ব্যবস্থা চালু করা উচিত।
ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে ডিজিটাল লেনদেন আরও সুরক্ষিত হবে। তবে একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। অচেনা ফোনকল, সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অজানা অ্যাপ থেকে সাবধান থাকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।