নিরাপদ বিনিয়োগ করবেন, না কি বেশি লাভের আশায় বাজারে বিনিয়োগ করবেন?প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে চান? কিন্তু RD না SIP; কোনটি বেছে নেবেন বুঝতে পারছেন না? আসলে এই বিভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে RD এবং SIP; দু'টিকেই কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের সম্পদ; দুই-ই নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমানে বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এক দিকে Recurring Deposit (RD)-এর নিশ্চয়তা রয়েছে। অন্য দিকে Mutual Fund SIP-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা। ফলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ছেন। নিরাপদ বিনিয়োগ করবেন, না কি বেশি লাভের আশায় বাজারে বিনিয়োগ করবেন?
আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনাকে একটি বাড়ি তৈরির সঙ্গে তুলনা করা যায়। যেমন একটি বাড়ির শক্ত ভিত প্রয়োজন, তেমনই বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’। অর্থাৎ, প্রথমেই অন্তত তিন মাসের প্রয়োজনীয় খরচের সমপরিমাণ টাকা নিরাপদ জায়গায় জমা রাখা জরুরি। পরে আয় এবং দায়িত্ব অনুযায়ী সেটি ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের খরচ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এতে চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয় না।
এই ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরির ক্ষেত্রে RD একটি জনপ্রিয় বিকল্প। কারণ, এতে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায় এবং মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা জমা রাখলে মেয়াদ শেষে সুদ-সহ পুরো অর্থ পাওয়া যায়। ফলে ঝুঁকি কম এবং রিটার্নও নিশ্চিত।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, RD-এর সুদের উপর আয়কর দিতে হয়। ফলে কর কাটার পরে প্রকৃত রিটার্ন কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা উচ্চ করের আওতায় পড়েন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দিকে, Mutual Fund SIP দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠনের একটি কার্যকর পদ্ধতি। বাজারের ওঠানামার কারণে স্বল্পমেয়াদে ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে SIP সাধারণত বেশি রিটার্ন দিতে পারে। অবসরকালীন সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনা বা ভবিষ্যতের বড় খরচের জন্য SIP উপযোগী বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো টাকা শুধুমাত্র SIP-এ বিনিয়োগ করা উচিত নয়। প্রথমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তত এক মাসের খরচের টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখা জরুরি, যাতে হঠাৎ প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
Recurring Deposit আসলে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের বিনিয়োগ পদ্ধতি, যেখানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করা হয়। নির্দিষ্ট সুদের হারে এই টাকা বৃদ্ধি পায় এবং মেয়াদ শেষে সুদ-সহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কেউ প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে পাঁচ বছর ধরে ৭.৫ শতাংশ সুদের হারে RD করেন, তাহলে মেয়াদ শেষে প্রায় ৬২,৪৭৮ টাকা পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল RD এবং SIP; দুই-ই ব্যবহার করা। স্বল্পমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য RD এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের জন্য SIP; এই দুইয়ের সমন্বয়েই তৈরি হয় একটি শক্তিশালী আর্থিক পরিকল্পনা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেশি রিটার্নের লোভ না করে প্রথমে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সঠিক পরিকল্পনা এবং Balanced বিনিয়োগই ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।