সূত্রের খবর, রয়্যাল এনফিল্ড নাকি চিনের মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক সংস্থা CFMoto-র সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। Royal Enfield 250 CC Bike: রয়্যাল এনফিল্ড। নামটা শুনলেই বাইকপ্রেমীদের চোখে-মুখে আলাদা একটা উন্মাদনা দেখা যায়। শক্তিশালী ইঞ্জিন, ভারী একজস্টের গর্জন আর ক্লাসিক ডিজাইন। এই তিনের মেলবন্ধনেই বছরের পর বছর ধরে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে এই সংস্থা। তবে এবার সেই পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে নতুন এক জল্পনা ঘুরছে অটোমোবাইল সেক্টরে। সূত্রের খবর, রয়্যাল এনফিল্ড নাকি চিনের মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক সংস্থা CFMoto-র সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। আলোচনার বিষয়, ২৫০ সিসির ইঞ্জিন।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরছে বাইকপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকেরই ধারণা, বাজারে নতুন রয়্যাল এনফিল্ডের ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল আসতে পারে। যদি সত্যিই তা হয়, তা হলে সেটিই হবে সংস্থার সবচেয়ে কম দামের বাইক। শুধু দামই নয়, ফুয়েল এফিসিয়েন্সির দিক থেকেও এটিই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী রয়্যাল এনফিল্ড।
যদিও সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে অটোমোবাইল দুনিয়ায় এই ধরনের খবর বেশিদিন চাপা থাকে না। শিল্পমহলের একাংশের দাবি, এই নতুন ২৫০ সিসির ইঞ্জিনটি রয়্যাল এনফিল্ডের আপকামিং ‘V’ প্ল্যাটফর্মে বসানো হতে পারে। সেই প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করেই সম্পূর্ণ নতুন একটি বাইক তৈরির পরিকল্পনা থাকতে পারে সংস্থার।
বর্তমানে রয়্যাল এনফিল্ডের সবচেয়ে সস্তার বাইক হল Hunter 350। স্বাভাবিক ভাবেই ২৫০ সিসির বাইক এলে তার দাম আরও কম হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের কাছে রয়্যাল এনফিল্ড আরও বেশি হাতের নাগালে চলে আসতে পারে।
নতুন ইঞ্জিন নিয়ে আরও বেশ কিছু খবর শোনা যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, এই ২৫০ সিসির ইঞ্জিনে মাইল্ড বা ফুল হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে সংস্থা। কারণ, এখন দুই চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে BSVI ফেজ ২ এবং CAFE রেগুলেশন বাধ্যতামূলক। সরকারের এই নিয়ম অনুযায়ী বাইককে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই হবে। সেই শর্ত মেনেই নতুন ইঞ্জিন ও বাইক তৈরি হতে পারে বলে ধারণা।
তবে ইঞ্জিনে পরিবর্তন এলেও, রয়্যাল এনফিল্ডের চেনা চরিত্র বজায় রাখার দিকেই নজর থাকবে বলে খবর। ক্লাসিক স্টাইল এবং পাওয়ার; এই দুইয়ের ভারসাম্য রাখার মতো করেই ইঞ্জিনের ডিজাইন করা হতে পারে। বাইকের ফ্রেম, সাসপেনশন এবং সামগ্রিক ডিজাইন চেন্নাইয়ের কারখানাতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম কোনও বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে বাইকের ইঞ্জিন নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাল রয়্যাল এনফিল্ড। এতদিন ৩৫০, ৪৫০, ৬৫০ কিংবা আসন্ন ৭৫০ সিসি; সব ইঞ্জিনই নিজেদের কারখানায় তৈরি করেছে সংস্থা।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে; চিনের CFMoto র ইঞ্জিনের ২৫০ সিসির বাইকেও কি রয়্যাল এনফিল্ডের সেই চেনা ‘দুমদুম’ শব্দ আর টান পাওয়া যাবে? তার উত্তর দেবে সময়ই।
অটোমোবাইল সেক্টরের ধারণা, সব কিছু ঠিকঠাক এগোলেও বিষয়টি ফাইনাল হতে কিছুটা সময় লাগবে। এই ডিল বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষের দিকেই অফিসিয়াল ঘোষণা হতে পারে। আপাতত রয়্যাল এনফিল্ডের নতুন ২৫০ সিসির বাইক কবে রাস্তায় নামে, সেই দিকেই তাকিয়ে বাইকপ্রেমীরা।