Annapurna Yojana Payment Update: ১ জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তি, আপনার নাম আছে? তালিকা দিল সরকার

প্রকল্পে এখনও নাম নথিভুক্ত না হওয়া মহিলাদেরও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দ বলেছেন, 'কোনও চিন্তা করবেন না। এখনও যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। সরকারি আধিকারিকেরা আপনাদের সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সহযোগিতা করা হবে।'

Advertisement
১ জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার পরবর্তী কিস্তি, আপনার নাম আছে? তালিকা দিল সরকারজুলাইতে কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা?


গত ৫ জুন থেকে অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ চলছে। এছাড়াও রাজ্য সরকার পরিচালিত জনকল্যাণ শিবিরেও মিলছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। অনেকে আবার সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ফর্মপূরণ করছেন। বাড়ির ল্যাপটপ বা ডেক্সটপেও করা যাচ্ছে ফর্ম ফিলআপ , না থাকলে স্মার্ট ফোনেও অনায়াসে করা যাচ্ছে ফর্মপূরণ।  এখন অনেকেরই প্রশ্ন, আবেদন করার পর কবে টাকা অ্যাকাউন্টে আসবে। সেই দিনও এবার জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বুধবার ফলতার জনকল্যাণ শিবির থেকে জানিয়ে দেন, 'গত ৩ জুন ২৮ লক্ষ মা-বোনের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত আরও ১ কোটি ৫ লক্ষ মা-বোন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করে তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। তাঁরা আগামী ১ জুলাই জুন মাসের ৩ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন।'

প্রকল্পে এখনও নাম নথিভুক্ত না হওয়া মহিলাদেরও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দ  বলেছেন, 'কোনও চিন্তা করবেন না। এখনও যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। সরকারি আধিকারিকেরা আপনাদের সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সহযোগিতা করা হবে।'

উল্লেখ্য, বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রকল্প চালু হয়েছে। কীভাবে এই সরকারি স্কিমে আবেদন বা পেমেন্ট স্টেটাস চেক করবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।             

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সাহায্য DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। আবেদনপত্র যাচাই, নথি ভেরিফিকেশন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরই টাকা জমা হবে। কোনও তথ্য ভুল থাকলে বা যাচাই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে পেমেন্টে দেরি হতে পারে। 

কীভাবে চেক করবেন অন্নপূর্ণা যোজনার স্টেটাস?
ফর্ম জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীরা সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে গিয়ে স্টেটাস দেখতে পারবেন।

Advertisement

স্টেপ-বাই-স্টেপ পদ্ধতি

  • সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে লগ-ইন করুন।
  • 'Application Status' বা 'Track Application' অপশনে ক্লিক করুন।
  • আবেদন নম্বর, আধার নম্বর বা রেজিস্ট্রেড মোবাইল নম্বর দিন।
  • OTP ভেরিফিকেশন করুন।
  • স্ক্রিনে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে।
  • স্টেটাসে 'Approved', 'Verified' বা 'Payment Processed' দেখালে বুঝতে হবে আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে 'Pending Verification' দেখালে এখনও নথি যাচাই চলছে।   

টাকা না এলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিংয়ে সমস্যা থাকলে DBT ব্যর্থ হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কি না তা আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত। এছাড়া আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র সঠিক আছে কি না তাও দেখে নিতে হবে।  সরকারি সূত্রের দাবি, যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে ৩,০০০ টাকা করে জমা করা হবে। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত স্টেটাস চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   

 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র ফর্মপূরণের প্রক্রিয়া

  •  সবার প্রথমে গুগল সার্চ অপশনে গিয়ে West Bengal Annapurna Bhandar online apply 2026-এ ক্লিক করুন। এরপর https://socialregistry.wb.gov.in/ লিঙ্কে ক্লিক করুন। এই লিঙ্ক থেকে সরাসরি সার্চ করতে পারেন।     
  • এরপর Citizen/ Family Login-এ গিয়ে Access Citizen Portal-এ ক্লিক করুন। এখান থেকে নিজের রাজ্য বেছে নিন। তারপর নীচে নিজের ফোন নম্বর দিন। ক্যাপচা দিতে হবে। এরপর Request OTP করুন। আপনার মোবাইল নম্বরে OTP যাবে। এরপর Verify & Continue-এ ক্লিক করার পর পরবর্তী পেজ আসবে।  

  
ফর্ম খুলে যাওয়ার পরে পরিবারের কর্তা (হেড অফ দ্য ফ্যামিলি) (আপনি/ বাবা/ মা/ স্বামী) কে সেই তথ্য দিন। পরিবারের প্রধানের নামের পাশাপাশি দিতে হবে তাঁর বয়স, ঠিকানা, তিনি কোন বিধানসভার ওয়ার্ডের বাসিন্দা, পার্ট নম্বর, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ডের নম্বর, ফোন নম্বর-সহ সমস্ত তথ্য। বাড়ির কতজন সদস্য, নিজের জাতি উল্লেখ থেকে সব ফিলআপ করে নিন।   
ভোটার কার্ড, আধার কার্ড যেখানে ছবির দরকার হবে সেখানে ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। আগে থেকে ছবি তোলা থাকলে, আপলোড অপশনে গিয়ে গ্যালারি থেকে সিলেক্ট করে নিন। মাথায় রাখবেন যে বক্সগুলির পাশে * মার্ক রয়েছে, সেই তথ্য দেওয়া আবশ্যিক।

আবেদনের জন্য ভোটার কার্ড অর্থাৎ এপিক নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে থাকলে সেই তথ্য দিতে হবে। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকলে তারা আবেদনই করতে পারবেন না।   অনলাইনে আবেদনের জন্য লাগবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড। আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর। এছাড়াও ইনকাম প্রুফ, পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ফটো-সহ একাধিক তথ্য লাগবে। ফর্মে দিতে হবে পরিবারের সকল সদস্যের আধার কার্ড। বাড়ির সদস্যের মোবাইল নম্বর। সদস্যের ভোটার এপিক নম্বর। পরিবারের সকল সদস্যের জন্মতারিখ। ডিজিটাল রেশন কার্ড নম্বর। কার্ডটি কোন ধরনের সেটিও জানাতে হবে।   

আবেদনপত্রে দিতে হবে পরিবারের প্রধান ও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের ব্যাঙ্কের ডিটেলস। পরিবারের নিজস্ব জমি রয়েছে কি না, মোট জমির পরিমাণ কত, তিন বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না, জমির রেকর্ড, মিউটেশনের তথ্যও জমা দিতে হবে। কারও নামে চার চাকার গাড়ি থাকলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, গাড়ির মডেল জানাতে হবে।  আবেদনকারীকে স্বাস্থ্যবিমা থাকলে তার তথ্য দিতে হবে। প্যান ও জিএসটি, আয়ের কলামে সেই তথ্য দিতে হবে। কেউ আয়কর দেন কি না, তা জানাতে হবে স্পষ্টভাবে। প্রত্যেক সদস্যের পেশা জানাতে হবে। এসআইআর ২০২৬ সংক্রান্ত মামলা থাকলে তথ্য দিতে হবে।                      
 

POST A COMMENT
Advertisement