অষ্টম বেতন কমিশনের স্যালারি পেতে কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রের সরকারি কর্মীদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেতন কত হাজার টাকা বাড়বে? বেতন কবে পাবেন এবং তাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা জমা হবে কি? কারণ, ২০২৬ সালের অক্টোবর চলছে, তবে সরকারের তরফে এখনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়নি বা বর্ধিত বেতন পাওয়ার তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ কতদূর এগিয়েছে?
অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। এর আগে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কমিশনের কার্যপরিধি (টিওআর) অনুমোদন করে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই।
কমিশনকে যাবতীয় সুপারিশ প্রস্তুত করার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ তারিখ রয়েছে ৩ মে। বর্তমানে, কমিশন কর্মচারী, কর্মচারী সংগঠনের থেকে মতামত নিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে সভা ও পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অক্টোবরে মুম্বাইতে বৈঠক করবে কমিশন। ইতিমধ্যেই কলকাতায় এই বৈঠক হয়ে গিয়েছে।
অ্যাকাউন্টে নতুন হারে স্যালারি কবে পাবেন?
কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল বর্ধিত হারে বেতন পাওয়ার তারিখ। সত্যিটা হল, সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেনি। প্রথমে কমিশন নিজেদের রিপোর্ট তৈরি করবে। এরপর সরকার সুপারিশগুলো বিবেচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তাই অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়লেই যে নতুন হারে স্যালারি পাওয়া যাবে, তা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেতন চালু করার কথা কেন বলা হচ্ছে?
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু আলোচনা চলছে। এর কারণ হল, সাধারণত দুটি বেতন কমিশনের মধ্যে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধান থাকে। তবে, বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার তারিখ অবশ্যই আলাদা হতে পারে।
৫০ লক্ষ কর্মচারী ও ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন
অষ্টম বেতন কমিশন লাগু হলে আনুমানিক ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং আনুমানিক ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বেতন, পেনশন, ভাতা এবং অন্য সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তনের জন্য কমিশনের সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত, কর্মীদের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, নতুন বেতন কাঠামো এবং বাস্তবায়নের তারিখ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।