কোনটি আপনার জন্য সেরা? সেই হিসেবই ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়া যাক।SCSS vs SSY vs PPF vs SBI FD: কোথায় টাকা রাখলে নিরাপদ থাকবে, আবার ভাল রিটার্নও মিলবে? বাজারের অনিশ্চয়তা চরমে। তবে সরকারি স্কিম এবং ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট এখনও তুলনাহীন। কিন্তু Senior Citizen Savings Scheme (SCSS), Sukanya Samriddhi Yojana (SSY), Public Provident Fund (PPF) এবং SBI Fixed Deposit; এই চারটির মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায়? কোনটি আপনার জন্য সেরা? সেই হিসেবই ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়া যাক।
প্রথমেই বুঝতে হবে, এই চারটি স্কিমের লক্ষ্য আলাদা। SCSS মূলত অবসরপ্রাপ্তদের জন্য। SSY কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য। PPF দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য, আর SBI FD তুলনামূলক স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদের বিনিয়োগ।
রিটার্নের দিক থেকে দেখলে, SCSS সাধারণত উচ্চ সুদের স্কিমগুলির মধ্যে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৮ শতাংশের বেশি সুদ দেয় এই স্কিম, যা সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আকর্ষণীয়। অন্যদিকে SSY-তেও উচ্চ সুদ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ভালো সঞ্চয় গড়তে সাহায্য করে। PPF-এর সুদ তুলনামূলক কম হলেও এটি স্থিতিশীল এবং সম্পূর্ণ করমুক্ত।
SBI FD-তে সুদের হার সাধারণত ৬–৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির থাকে।
লক-ইন পিরিয়ডের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। PPF-এ ১৫ বছরের লক-ইন, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য উপযুক্ত। SSY-তেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন। SCSS-এর লক-ইন সাধারণত ৫ বছর। SBI FD-তে বিনিয়োগের মেয়াদ আপনি নিজেই বেছে নিতে পারেন; এটাই এর বড় সুবিধা।
ট্যাক্স সুবিধার দিক থেকেও পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি স্কিমেই আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। তবে PPF-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল; এর সুদ সম্পূর্ণ করমুক্ত। অন্যদিকে FD এবং SCSS-এর সুদের উপর কর দিতে হয়।
ঝুঁকির দিক থেকে দেখলে, PPF, SSY এবং SCSS; এই তিনটি স্কিমই সরকারি সুরক্ষিত। ফলে এগুলি প্রায় ঝুঁকিমুক্ত। FD-ও তুলনামূলক নিরাপদ হলেও তা ব্যাঙ্কের উপর নির্ভরশীল।
তাহলে কার জন্য কোন স্কিম?
যাঁরা অবসর নিয়ে নিয়মিত আয় চান, তাঁদের জন্য SCSS সবচেয়ে উপযুক্ত। সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় করতে চাইলে SSY ভালো অপশন। যারা দীর্ঘমেয়াদে করমুক্ত সঞ্চয় চান, তাঁদের জন্য PPF অন্যতম সেরা। আর যারা স্বল্প বা মাঝারি মেয়াদে নিরাপদ রিটার্ন চান, তাঁদের জন্য SBI FD সুবিধাজনক।
সব মিলিয়ে, একটাই স্কিমে ভরসা না করে লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ ভাগ করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর্থিক পরিকল্পনায় বৈচিত্র্য রাখলে ঝুঁকি কমে, রিটার্নও স্থির থাকে; এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।