সেবা সেতু শেষ হলেও সরকারি স্কিমে আবেদনের সুযোগ
সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু’ অভিযান। ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে ৪ অক্টোবর অর্থাৎ আজ পর্যন্ত। এই কর্মসূচিতে অভাবনীয় সাড়া মিলেছে। রাজ্যজুড়ে প্রথম দিনেই দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন।
কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ কোনওরকম হয়রানি ছাড়াই পান, তা নিশ্চিত করতেই এই সিঙ্গল-উইন্ডো পদক্ষেপ করা হয়েছে। মূলত এক ছাতার তলায় সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা প্রদান, তাৎক্ষণিক নামভুক্তি, নথিপত্র যাচাই এবং অভাব-অভিযোগ শোনার জন্যই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের জয় হিন্দ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেবা সেতু ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সমস্ত সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা যাবে সেবা সেতু ক্যাম্পে, কোনও প্রকল্পের সুবিধা না পেলে অভিযোগও জানানো যাবে, যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা শহরে ৫৪টি সেবা সেতু ক্যাম্প চলছে, জানিয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। কলকাতায় সেতু ক্যাম্প থেকে প্রথম দিনেই ২৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
এই শিবিরে কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলছে?
তালিকায় রয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শিক্ষাশ্রী, জয় জোহার, পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড, পিএম কিষান স্বনিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি। কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক ২০টি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
পূর্বতন সরকারের দুয়ারে সরকার শিবিরের ধাঁচেই সেবা সেতু অভিযান ক্যাম্প হচ্ছে জেলায় জেলায়। তবে এই ক্যাম্পগুলিতে এবার রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সমস্ত যোজনাগুলিতে অ্যাপ্লাই করার সুযোগও রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই বিশেষ সেবা সেতু অভিযানে বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম নিয়ে পরিষেবা দিতে হাজির থাকছেন সরকারি আধিকারিকরা।
রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন দিনে মোট ৩ হাজার ২৫১ টি শিবিরের আয়োজন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এক ছাদের নিচে ৬০টি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্যাম্প থেকেই বিধবা ভাতা, বয়ষ্ক ভাতা ও বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্নদের ভাতার আবেদনের জন্য নতুন ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান কার্ডের স্ট্যাটাস অনুসন্ধানও করা যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, কলকাতার ক্ষেত্রে দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে এই সেবা সেতু অভিযানের শিবির খোলা হচ্ছে। হাওড়া পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের ২৬ টি জায়গায় শুরু হচ্ছে সেবা সেতু অভিযান শিবির। আপনার বাড়ির সামনে কোথায় সেবা সেতু অভিযান শিবির বসেছে, তা জানতে jks.wb.gov.in -ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে হচ্ছে। কিংবা 1800 345 0117 / 033-2214 0152- এই ফোন নম্বরে কল করে জানা যাবে।
ক্যাম্পে যেতে না পারলে কী করবেন?
৪ অক্টোবর অর্থাৎ আজ পর্যন্ত চলবে সেবা সেতু ক্যাম্প। এই সময়ের মধ্যে ক্যাম্পে যেতে না পারলেও অনেক সরকারি প্রকল্পে অনলাইনে বা নিকটবর্তী Bangla Sahayata Kendra (BSK)-র মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে কোন প্রকল্পে আবেদন করবেন তার ওপর নিয়ম আলাদা হতে পারে। আপনি যদি নির্ধারিত দিনে ক্যাম্পে যেতে না পারেন, তাহলে আতঙ্কের কিছু নেই। সম্ভব হলে পরবর্তী ক্যাম্পের তারিখ/স্থান জেনে সেখানে যান। আপনার আবেদন বা পরিষেবার কাজটি সেবা সেতু পোর্টাল/নিকটবর্তী সরকারি পরিষেবা কেন্দ্রে করা যায় কি না দেখুন। নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বিষয়ে নিশ্চিত হতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন/সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন। আপনার কাছে যদি ক্যাম্পের SMS, আবেদন নম্বর বা নোটিস থাকে, সেটি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করুন।
পশ্চিমবঙ্গের 'সেবা সেতু' (জনকল্যাণ শিবির) মিস করলেও চিন্তার কিছু নেই। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদন করার একাধিক স্থায়ী মাধ্যম রয়েছে:
পরবর্তী সেবা সেতু শিবির
রাজ্য সরকার পর্যায়ক্রমে শিবিরের আয়োজন করে। আপনার পঞ্চায়েত, বিডিও (BDO) অফিস বা পৌরসভার নোটিশ বোর্ডে চোখ রাখুন।
সংশ্লিষ্ট অফিস / বিডিও অফিস
আপনার নিকটস্থ বিডিও (Block Development Office) বা এসডিও (SDO) অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। সেখানে সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক ভাতা (বার্ধক্য, বিধবা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ইত্যাদি) এবং কৃষি সংক্রান্ত আলাদা আলাদা বিভাগ রয়েছে।
বাংলা সহায়তা কেন্দ্র (BSK)
আপনার নিকটস্থ বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে (BSK) গিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করাতে পারেন।
ওয়েবসাইট: bsk.wb.gov.in
সরাসরি অনলাইন পোর্টাল (প্রকল্প অনুসারে)
অনেক প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজে আবেদন করা যায়:
কৃষক বন্ধু / পিএম কিষাণ: সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টাল বা কৃষি আধিকারিকের (ADA) অফিসে সরাসরি নথি জমা দিন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড / স্কলারশিপ: wbscc.wb.gov.in বা বিকাশ ভবন পোর্টাল।
ই-শ্রম / উদয়ম রেজিস্ট্রেশন / ক্ষুদ্র ঋণ: সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব পোর্টাল থেকে।
প্রয়োজনীয় নথি (সাধারণত যা সঙ্গে রাখবেন):
আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স
ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
কাস্ট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
মোবাইল নম্বর