শমীক ভট্টাচার্য।-ফাইল ছবিপশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সঙ্কট নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার সংসদে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, 'কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে রাজ্যের গ্যাস ডিলারদের 'গান পয়েন্টে' রেখে সমস্ত গ্যাস তুলে নেওয়া হচ্ছে।'
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে আসছে। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার গুদামের সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ফোন বা অনলাইনে গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। বুধবার তিনি দুই টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেই আঙুল তোলেন। তাঁর বক্তব্য, 'আমি চাইলে ভর্তুকি দিতে পারি, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হবে না। কারণ, গ্যাসের জোগানই নেই। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।' তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছেন এবং বৃহস্পতিবার একটি বৈঠকও ডাকা হয়েছে, যাতে বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা যায়।
বুধবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তাই গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের আরও সমন্বয় প্রয়োজন। কোথায় কত গ্যাস মজুত রয়েছে এবং কতটা সরবরাহ করা হচ্ছে, তার স্পষ্ট হিসাব রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের গ্যাস যেন অন্যত্র চলে না যায়, তা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে রাজনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসক দল। তৃণমূল নেত্রী হিসেবে মমতা জানিয়েছেন, রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের প্রতিবাদে আগামী সোমবার কলকাতায় মিছিল করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে।