SIPবিশ্ব বাজারে রয়েছে অস্থিরতা। সেই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোজই নিত্যনতুন তোপ দাগছেন। আর সেই কারণে শেয়ারবাজারের হাল খারাপ। প্রায় রোজই নামছে সেনসেক্স এবং নিফটি। যার ফলে দিশেহারা সাধারণ লগ্নিকারীরা।
এখন প্রশ্ন হল, এই পরিস্থিতিতে কী করতে পারেন লগ্নিকারীরা? তাঁরা কী SIP বন্ধ করে দেবেন? আর সেই উত্তরটাই দিলেন দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং Manasi Research Foundation-এর চেয়ারম্যান মানসকুমার ঠাকুর।
কেন শেয়ারবাজারে ডামাডোল?
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মানসবাবু বলেন, 'আমেরিকা ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি আরও ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হতে পারে রাশিয়া থেকে তেল কিনলে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলাতে আক্রমণ করেছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ও মেক্সিকোতেও আক্রমণ করতে পারে বলেও খবর। আর সেই কারণেই শেয়ারবাজার রোজ পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।'
আরও নামতে পারে সেনসেক্স, নিফটি?
এই বিষয়টা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাইলেন না মানসবাবু। তাঁর মতে, মার্কেটের দিকে নজর রাখতে হবে। এখন অনিশ্চয়তা চলবে।
SIP বন্ধ রাখবেন?
এই সময় অনেকেই SIP বন্ধ করে দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, এখন পড়ছে বাজার। তাই তাঁরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই সময় SIP বন্ধ করা কি ঠিক হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মানসবাবু বলেন, SIP বন্ধ করা ঠিক হবে না। পরিস্থিতি যাই হোক বিনিয়োগ করে যেতে পারে। খুব ভয় লাগলে আগের থেকে কিছুটা কম টাকা ইনভেস্ট করতে পারেন। তবে ইনভেস্ট করতেই হবে।
মাথায় রাখতে হবে, SIP আজকের কথা ভেবে করা হয় না। এটা দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করেই করতে হয়। তাই এখন মার্কেট যদি নীচের দিকেও যায়, তাতে ক্ষতি নেই। এমন সময় কিছু টাকা SIP করে রাখলে পরে মার্কেট উঠলে ভাল রিটার্ন মিলবে। এটাই হল সহজ হিসেব বলে জানালেন মানসবাবু।
সোনা-রুপোয় বিনিয়োগ চলবে?
তিনি বলেন, 'সোন এবং রুপোয় বিনিয়োগ চলতেই পারে। তাতে সমস্যার কিছুই নেই। এই দুই ধাতু এখন বাড়তে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটু বুঝেশুনে বিনিয়োগ করবেন। কারণ, এই দুই ধাতুর দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়ে রয়েছে। যার ফলে আর কতটা বাড়বে, সেটা এখন ঠিক নেই।'
কোথায় কতটা বিনিয়োগ?
বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে এখন এই নিয়মটা মেনে চলতে বললেন মানসবাবু। তিনি জানান, ৪০ শতাংশের মতো SIP করুন, বাদবাকি ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করুন সোনা এবং রুপোয়। আর ৩০ শতাংশ ফিক্সড করে দিন।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।