
২০২৬ সাল জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই বছরে দুটি সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রথমটি ফেব্রুয়ারিতে হয়ে গেলেও এখন সবার নজর বছরের দ্বিতীয় ও শেষ সূর্যগ্রহণের দিকে। ২০২৬ সালের ১২ অগাস্ট ঘটতে চলেছে এক বিরল সূর্যগ্রহণ। যা জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও আকাশপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি মহাজাগতিক ঘটনা।
গ্রহণের সময়সূচি (ভারতীয় সময় অনুযায়ী)
ভারতীয় মান সময় (IST) অনুসারে সূর্যগ্রহণের সম্ভাব্য সময়সূচি-
গ্রহণ শুরু: রাত ৯টা ৪ মিনিটে
গ্রহণের মধ্যম বা সর্বোচ্চ পর্যায়: রাত ১১টা ১৪ মিনিটে
পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শেষ: রাত ১টা ২৭ মিনিটে (১৩ অগাস্ট ভোরে)
ভারতে কি দেখা যাবে?
এই সূর্যগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে না। কারণ ওই সময় ভারতে গভীর রাত থাকবে এবং সূর্য দিগন্তের নিচে অবস্থান করবে। ফলে ভারতের আকাশ থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না।
কোথায় কোথায় দেখা যাবে?
১২ আগস্টের এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ মূলত উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। বিশেষভাবে দৃশ্যমান হবে-
আর্কটিক অঞ্চল
গ্রীনল্যান্ড
আইসল্যান্ড
এছাড়াও উত্তর স্পেন, পর্তুগালের কিছু অংশ, ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চল, কানাডা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর-পূর্ব রাশিয়া থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে।
সূর্যগ্রহণ কেন ঘটে?
বৈজ্ঞানিকভাবে সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে এবং সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে যায়। তখন পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না, ফলে সূর্যগ্রহণের দৃশ্য তৈরি হয়।
পৌরাণিক ব্যাখ্যা
হিন্দু পুরাণে সূর্যগ্রহণ নিয়ে একটি জনপ্রিয় কাহিনি রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের সময় দেবতা ও অসুরদের মধ্যে অমৃত নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই সময় স্বর্ভানু নামে এক অসুর ছদ্মবেশে দেবতাদের সারিতে বসে অমৃত পান করে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিষ্ণু তাঁর চক্র দিয়ে স্বর্ভানুর মাথা ছিন্ন করেন। পরে সেই মাথাই রাহু এবং দেহাংশ কেতু নামে পরিচিত হয়। পুরাণ অনুযায়ী, রাহু ও কেতু সূর্য ও চন্দ্রকে গ্রাস করলেই সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে।