স্টক মার্কেট ক্র্যাশশেষমেশ আশঙ্কাই সত্যি হল। আজ খোলার পরই ধড়াম করে পড়ল ভারতের শেয়ারবাজার। সোমবার সপ্তাহের শুরুর দিনই সেনসেক্স, নিফটির অবস্থা হয় খারাপ। ১১০০ পয়েন্টের বেশি নীচে নেমে আজ শুরু করেছে সেনসেক্স। ও দিকে নিফটির অবস্থাও তথৈবচ। এটি ৩০০ পয়েন্ট পড়েছে। আর শেয়ারবাজারের এমন শনির হাল হওয়ার পিছনে হাত রয়েছে ব্যাঙ্কিং সেক্টরের একাধিক স্টকের। এ দিন এক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও কোট্যাক ব্যাঙ্কের শেয়ার অনেকটাই পড়েছে। যদিও মার্কেট অনেকটা পড়ার আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
সেনসেক্স এবং নিফটির অবস্থা খারাপ
আজ শুরুতেই পড়ে যায় সেনসেক্স। আগের দিন এটা ক্লোজিং করেছিল ৭৩,৫৮৩ পয়েন্টে। আর আজ এটি ৭২,৫৬৫ পয়েন্টে ওপেনিং করে। এক মিনিটের মধ্যে সেটি নেমে যায় ৭২,৩৯১ পয়েন্টে। তলিয়ে যায় মোটামুটি ১১৯২ পয়েন্ট।
ও দিকে নিফটির হালও খারাপ। এটি পড়ে যায় ২২,৫৪৯ পয়েন্টে। গত শুক্রবার এটি ২২,৮১৯ পয়েন্টে ক্লোজিং করেছিল। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও পতন হয়। এটি ৩৪৯ পয়েন্ট পড়ে ২২,৪৭০ পয়েন্ট শেষ করে।
কোন কোন স্টকে বড় ক্ষতি?
সোমবার সকাল থেকেই একাধিক স্টকের হাল খারাপ। বড় ক্ষতির মুখে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। আজ অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ৪ শতাংশ, কোট্যাক ব্যাঙ্ক ৩ শতাংশ, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ২.৫০ শতাংশ ও আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ১.৭০ শতাংশ তলিয়ে গিয়েছে। এছাড়া বাজাজ ফিনান্স ২ শতাংশ এবং ভারতী এয়ারটেল ১.৫০ শতাংশ পড়েছে।
বিদেশ থেকেই খারাপ খবর আসছিল
ভারতের মার্কেটের অবস্থা যে খারাপ হবে, সেটা বোঝা যাচ্ছিল বিদেশের দিকে তাকলেই। এ দিন জাপান, কোরিয়া এবং হংকংয়ের শেয়ারবাজারের হাল ছিল খারাপ। জাপানের নিক্কেই আজ ২৩৮২ পয়েন্ট পড়েছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং নেমে গিয়েছে ৪৯০ পয়েন্ট। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি পড়েছে ২১৫ পয়েন্ট। আর এই সব সূচক পড়ার পরই আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে ভারতের মার্কেটের অবস্থাও হবে খারাপ।
স্টক মার্কেটের অবস্থা কেন খারাপ?
প্রথমত, এশিয়ার মার্কেটের হাল খারাপ। তার রেশ এসে পড়েছে ভারতে।
দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১৬ ডলারে।
তৃতীয়ত, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত থামার কোনও সংকেত এখনও নেই। আর এই সব কারণেই পড়েছে বাজার।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এমন অনিশ্চয়তা কিছু দিন চলতে পারে। তাই সতর্ক হতে হবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই করুন বিনিয়োগ।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।