E20 Rollout Survey: E20 পেট্রোলে গাড়ির কী কী ক্ষতি হচ্ছে? মালিকরা যা বলছেন

ই২০ পেট্রোল নিয়ে সাধারণ গাড়ি মালিকদের বিস্তর অভিযোগ। আর সেই চিত্রটাই উঠে এল একটি সমীক্ষায়। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

Advertisement
E20 পেট্রোলে গাড়ির কী কী ক্ষতি হচ্ছে? মালিকরা যা বলছেনই২০ রোলআউট
হাইলাইটস
  • ই২০ পেট্রোল নিয়ে সাধারণ গাড়ি মালিকদের বিস্তর অভিযোগ
  • আর সেই চিত্রটাই উঠে এল একটি সমীক্ষায়
  • আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক

ভারতে এখন পেট্রোলের নয়া জমানা চালু হয়ে গিয়েছে। এখন পাম্পে মিলছে ই২০ পেট্রোল। এতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো রয়েছে। পেট্রেলের পরিমাণ ৮০ শতাংশ। আর নয়া এই পেট্রোল নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, যাঁদের পেট্রোলের পুরনো গাড়ি বা বাইক রয়েছে, তাঁরাই বেশি চিন্তিত। আর এই বিষয়টা স্পষ্ট ধরা পড়েছে একটি সমীক্ষায়।

সেখানে দেখা গিয়েছে, পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের গাড়ি উচ্চ মাত্রার ইথানল জ্বালানির জন্য তৈরি হয়নি, তাঁরাই ক্ষোভ দেখাচ্ছে।

লোকালসার্কলসের করা এই সমীক্ষায় দেশের ৩১৬টি জেলার ২২,৫৬৭ জন পেট্রোল গাড়ির মালিক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পরিবহণ মন্ত্রক ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ই২০ পেট্রোল চালুর প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ বা কার্যকরী বলে মনে করেছেন। এঁদের মধ্যে ৪২ শতাংশ একে চরম ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। 

গাড়ির মাইলেজ কমেছে
অনেকেই দাবি করেছেন, এই নয়া পেট্রোলের জন্য তাঁদের গাড়ির মাইলেজ বেশ কিছুটা কমে গিয়েছে। ২০২৩ সালের আগে তৈরি পেট্রোল গাড়ির মালিকদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ই২০ পেট্রোল চালুর পর তাঁদের গাড়ির মাইলেজ ১০ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ বলেছেন, গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, যন্ত্রাংশের সমস্যা বা মেরামতের প্রয়োজন অনেকটাই বেড়েছে।

সমীক্ষার ফলাফলে জ্বালানির বিকল্প বেছে নেওয়ার চাহিদাও উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের আগে তৈরি পেট্রোল গাড়ির মালিকদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, ই২০-এর দাম কম হলেও তাঁরা ই০ বা ই১০ পেট্রোল কেনার বিকল্প চাইবেন সরকারের থেকে।

এই সমীক্ষা এমন সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন কেন্দ্রীয় সরকার ইথানল মেশনো পেট্রোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমে যাবে। পাশাপাশি কমবে দূষণ। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে কৃষকদের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত হবে।

Advertisement

বিতর্কের কেন্দ্রে পুরনো গাড়ি
সমীক্ষায় উঠে আসা অন্যতম বড় উদ্বেগ হল, বর্তমানে দেশের রাস্তায় চলা লক্ষ লক্ষ গাড়ি কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির জন্য তৈরি হয়েছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিলের আগে তৈরি অধিকাংশ পেট্রোল গাড়ি ই১০ জ্বালানির উপযোগী ছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তৈরি হয় গাড়িগুলিকেই সম্পূর্ণভাবে ই২০-এর সঙ্গে চলতে পারে ধরা হয়। ফলে বিপুল সংখ্যক গাড়ির মালিক কম মাইলেজ এবং বেশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে
সমীক্ষা বলছে, অনেক গাড়ির মালিক ইথানল মেশানোর বিরোধিতা করছেন না। বরং তাঁদের দাবি আরও বেশি বিকল্পের সুযোগ।

৩১ শতাংশ উত্তরদাতা অতিরিক্ত দাম দিয়েও ই০ বা ই১০ পেট্রোল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে পুরনো গাড়ির জন্য কম ইথানলযুক্ত জ্বালানি বাজারে রাখার দাবি জোরাল হচ্ছে।

সমীক্ষার পদ্ধতি
লোকালসার্কলসের এই সমীক্ষায় দেশের ৩১৬টি জেলার মোট ২২,৫৬৭ জন পেট্রোল গাড়ির মালিক অংশ নেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩১ শতাংশ মহিলা ছিলেন। প্রায় ৪৬ শতাংশ টিয়ার-১ জেলার বাসিন্দা, ৩২ শতাংশ টিয়ার-২ জেলার এবং বাকি ২২ শতাংশ টিয়ার-৩, টিয়ার-৪, টিয়ার-৫ ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement