Tata Tiago Facelift: কম বাজেটে সবচেয়ে Safe গাড়ি, টাটার এই গাড়ির বিক্রি হু হু করে বাড়ছে

৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, ৬টি এয়ারব্যাগসহ সবচেয়ে সস্তা গাড়ি। জুলাই মাসে বাম্পার সেল। জুলাইয়ে বিক্রি বাড়ল টাটা টিয়াগোর।

Advertisement
কম বাজেটে সবচেয়ে Safe গাড়ি, টাটার এই গাড়ির বিক্রি হু হু করে বাড়ছেটাটা মোটরসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে টিয়াগোর ৭,৪২৯টি ইউনিট বিক্রি হয়েছে।
হাইলাইটস
  •  গত কয়েক মাসে অনেক ক্রেতাই ফের বাজেট হ্যাচব্যাকের দিকে ঝুঁকছেন।
  • বিক্রি বাড়ল টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্টের (Tata Tiago Facelift)।
  • কম বাজেটেও নিরাপদ গাড়ি খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এটি বেশ ভাল অপশন।

Tata Tiago Facelift: গাড়ির দাম বাড়ছে। দাম বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলেরও। ফলে গত কয়েক মাসে অনেক ক্রেতাই ফের বাজেট হ্যাচব্যাকের দিকে ঝুঁকছেন। আর তাতেই বিক্রি বাড়ল টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্টের (Tata Tiago Facelift)। সংস্থার দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে এই গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কম দামের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, একাধিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং পেট্রোল-সিএনজি; দুই ধরনের বিকল্প থাকায় ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই মডেল। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, এই মুহূর্তে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ৬টি এয়ারব্যাগের মতো নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়া সবচেয়ে সাশ্রয়ী গাড়িগুলির অন্যতম টাটা টিয়াগো। ফলে কম বাজেটেও নিরাপদ গাড়ি খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এটি বেশ ভাল অপশন।

জুলাইয়ে কত বিক্রি হল?
টাটা মোটরসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে টিয়াগোর ৭,৪২৯টি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫,৫৭৫টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৩ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে এই হ্যাচব্যাকের। বর্তমানে এটি টাটা মোটরসের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম।

গাড়ির দাম বাড়লেও তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফিচার্স পাওয়াই এই বিক্রিবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা।

কত দাম টাটা টিয়াগোর?
ভারতীয় বাজারে টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্টের এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৪.৬৯ লক্ষ টাকা থেকে। টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৭.৩০ লক্ষ টাকা।

অন্য দিকে, সিএনজি সংস্করণের দাম শুরু হচ্ছে ৫.৮০ লক্ষ টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ প্রায় ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়। ফলে কম খরচে জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি কিনতে চাইলে সিএনজি ভ্যারিয়েন্টও একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

ইঞ্জিনে কী থাকছে?
টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্টে রয়েছে ১.২ লিটারের তিন সিলিন্ডার পেট্রোল ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বাধিক ৮৬ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১১৩ নিউটন মিটার টর্ক উৎপাদন করে।

সিএনজি সংস্করণে রয়েছে ফ্যাক্টরি-ফিটেড টুইন সিলিন্ডার প্রযুক্তি। সেখানে ইঞ্জিনের শক্তি ৭৫.৫ হর্সপাওয়ার এবং টর্ক ৯৬.৫ নিউটন মিটার। গাড়িটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড অটোমেটিক;  দুই ধরনের গিয়ারবক্সেই পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সিএনজি ভ্যারিয়েন্টেও অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে প্যাডেল শিফটার, যা এই সেগমেন্টে বিশেষ আকর্ষণ।

Advertisement

ফিচার্সেই বাজিমাত
টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্টের সবচেয়ে বড় শক্তি এর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য। সব ভ্যারিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ৬টি এয়ারব্যাগ, যা এই দামের গাড়িতে খুব কমই দেখা যায়।

এ ছাড়া ক্রিয়েটিভ ভ্যারিয়েন্টে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা রয়েছে। প্রায় ৬.৯৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) মূল্যের এই ভ্যারিয়েন্টে এই সুবিধা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, যা অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সমর্থন করে।

মাইলেজ কেমন?
সংস্থার দাবি, পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টে প্রতি লিটারে সর্বাধিক ২০.০৯ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে।

অন্য দিকে, সিএনজি ভ্যারিয়েন্টে প্রতি কেজিতে ২৬.৪৯ থেকে ২৮.০৬ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজের দাবি করেছে টাটা মোটরস। ফলে যাঁরা প্রতিদিন বেশি দূরত্বে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য সিএনজি মডেল খরচ বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।

এ ছাড়াও টিয়াগোর ইলেকট্রিক (EV) সংস্করণও বাজারে রয়েছে। ফলে একই মডেলের মধ্যে পেট্রোল, সিএনজি এবং বৈদ্যুতিক; তিন ধরনের বিকল্পই পাচ্ছেন ক্রেতারা।

কম দাম, উন্নত নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো একাধিক সুবিধার কারণে টাটা টিয়াগো ফেসলিফ্ট এখন দেশের ছোট গাড়ির বাজারে অন্যতম আলোচিত মডেল হয়ে উঠেছে। জুলাই মাসের বিক্রির পরিসংখ্যানও সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

POST A COMMENT
Advertisement