
ইভি স্টেশনমধ্য প্রাচ্যে অশান্তির জেরে, পেট্রোল, ডিজেলের সঙ্কট ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে বাড়ছে ইলেট্রিক গাড়ির চাহিদা। ইলেট্রিক গাড়ির সংখ্যা বাড়লে ব্যাটারি রিচার্জ করার জন্য পাম্পও দরকার হয়। আপনার যদি খালি জমি থাকে এবং আপনি ন্যূনতম ঝুঁকিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা শুরু করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, এই ব্যবসা থেকে নিয়মিত আয় করার সম্ভাবনা থাকে।
তবে, ভবিষ্যতের অসুবিধা এড়াতে, ব্যবসা শুরু করার আগে এর খরচ, প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং পদ্ধতিগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইভি চার্জিং স্টেশন শুরু করার জন্য কী কী দরকার?
এই ব্যবসা শুরু করতে, আপনার প্রথমে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ বর্গগজের একটি জমি প্রয়োজন। এই জমিটি আপনার নামে অথবা কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হতে হবে। এছাড়াও, দিনে ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতে হবে, কারণ এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। আপনাকে বন বিভাগ, দমকল বিভাগ এবং পৌরসভা সহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে NOC নিতে হবে।
এছাড়াও, স্টেশনে ট্রেন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, পার্কিং সুবিধা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিশ্রামের জায়গা এবং অগ্নি সুরক্ষার মতো মৌলিক সুবিধাও প্রয়োজন, যাতে যাত্রীদের বা চালকদের কোনও অসুবিধা না হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিকল্প
একটি ইভি চার্জিং স্টেশনের জন্য আবেদন করার দুটি প্রধান উপায় রয়েছে। প্রথমত, আপনি সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন, যেমন ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং পরিবহন বিভাগ, যেখানে আপনাকে আপনার জমি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
আরেকটি বিকল্প হলো বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল গ্রহণ করা। বর্তমানে, অনেক বড় কোম্পানি এই ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়েথাকে, যা আপনাকে সেটআপ থেকে শুরু করে কারিগরি সহায়তা পর্যন্ত সবকিছু সরবরাহ করে। এই পদ্ধতিটি তাদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক, যারা ন্যূনতম ঝামেলায় ব্যবসা শুরু করতে চান এবং বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা চান।
খরচ এবং সম্ভাব্য আয়
বিনিয়োগের দিক থেকে, একটি ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে, যা স্টেশনের ধারণক্ষমতা এবং অবস্থানের উপর নির্ভর করে। এই ব্যবসায় আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হলো চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা। যত বেশি যানবাহন চার্জ করা হবে, আয়ও তত বাড়বে। একটি মাঝারি ক্ষমতার স্টেশন দৈনিক বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারে, যা মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে, এর মধ্যে কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা কেবল একটি বাস্তবসম্মত লাভের হিসাবেই ধরা যেতে পারে।