আজ নবান্ন সভাঘরে সূচনা করবেন শুভেন্দুএবার থেকে বর্ধিত হারে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দেবে রাজ্য সরকার। আগেই সেকথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই বর্ধিত টাকা ঢুকতে চলেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে দেড় হাজার টাকা। আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ যাওয়া শুরু হচ্ছে। এদিন যার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
৬২ লক্ষ অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে
আজ সোমবার রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার অ্যাকাউন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধিত হারে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা পাঠানো শুরু করছে নবান্ন। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে করে ১৫০০ টাকা। এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই সকল উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে নবন্নের তরফে।
মুখ্যমন্ত্রী সূচনা করবেন
আজ নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বর্ধিত হারে বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রদানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার কথা রয়েছে। আগে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দেওয়া হত ১০০০ টাকা করে। বিজেপি সরকার ক্ষমতা এসে এই তিন ভাতাই ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসাবে বাংলায় বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। আগামী দিনে এই ভাতা বেড়ে ২০০০ টাকা কর হবে, তাও জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
কবের মধ্যে টাকা মিলবে?
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনার এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই সমস্ত সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ফলে সুবিধাভোগীদের ভাতা পেতে কোনও অতিরিক্ত জটিলতার মুখে পড়তে হবে না বলেই মনে করছে প্রশাসন। মোট সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সাহায্য পাবেন। অন্যদিকে, বাকি প্রায় ৪০ লক্ষ সুবিধাভোগীর ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ বহন করবে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের মতে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পরিধিই বাড়াবে না, পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন করে কতজন ভাতা পাচ্ছেন?
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হচ্ছে। জনকল্যাণ শিবিরে এই তিন ধরনের ভাতারজন্য আবেদন করেছিলেন এমন প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মানুষও এবার টাকা পাবেন। সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পাঠানো হবে। জানা গিয়েছে, সমস্ত তথ্য যাচাই করেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্নে।
কীভাবে পাবেন টাকা?
ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হবে। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওল্ড এজ পেনশন স্কিমের অধীনে বার্ধক্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল উইডো পেনশন স্কিমের অধীনে বিধবা ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটিস স্কিমের অধীনে পেনশন স্কিমে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে আবেদনকারীকে। সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়স হতে হবে ষাট বছর। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা বয়স পঞ্চান্ন বছর হলেই আবেদনযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অন্তত টানা দশ বছর তাঁকে রাজ্যে বসবাস করতে হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের কপি বা অ্যাটেস্টেড জেরক্স জমা দিতে হবে। বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার আবেদন প্রথম 'জনকল্যাণ শিবির'-এ করতে পারেননি অনেকেই, ফলে নতুন যারা আবেদনের কথা ভাবছেন তাঁরা বেশ চিন্তায় রয়েছেন। কিন্তু না, চিন্তার কারণ নেই, আগামীতে যে শিবির হবে সেখানে আবেদনপত্র পাবেন উপভোক্তারা। অর্থাৎ নতুন করে যারা আবেদন করতে চান, তারা নতুন 'জনকল্যাণ শিবির' থেকে আবেদনের জন্য ফর্ম পাবেন, সেই ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিতে পারবেন।