২০ বছর পর কত কামাতে হবে?Inflation Rate After 20 Years:ব্যাঙ্কে জমানো ১ কোটি টাকা দেখে ভাবছেন জীবন নিশ্চিন্ত? একবার মুদ্রাস্ফীতি বা বাজারের দরবৃদ্ধির অঙ্কটা কষে দেখুন। আজ যে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে মাসে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়, বার্ষিক ৬ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ধরলে ২০ বছর পর সেই একই স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পকেট থেকে বের করতে হবে মাসে অন্তত ১.৬ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, আজকের কোটি টাকার ভাণ্ডার ২০ বছর পর কর্পূরের মতো উবে যাবে। তাই অবসরের পর ‘রাজকীয়’ জীবন কাটাতে চাইলে বর্তমানের খরচে নয়, নজর দিন ভবিষ্যতের মুদ্রাস্ফীতিতে।
ভবিষ্যতের জন্য একটি সুরক্ষিত ও মজবুত ফাণ্ড তৈরি করতে গেলে প্রয়োজন সঠিক কৌশল। এই আর্থিক লড়াইয়ে জেতার কিছু সহজ 'ট্রিকস' রইল আপনার জন্য:
সময়ের চাবিকাঠি
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সময় আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু। যত আগে শুরু করবেন, ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা তত বেশি পাবেন। সামান্য অঙ্কের টাকা দিয়ে আজই যাত্রা শুরু করুন, কয়েক দশক পর তা হিমালয়প্রমাণ ফাণ্ডে পরিণত হবে।
ডালি সাজিয়ে বিনিয়োগ: সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না। ঝুঁকি কমাতে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট ফান্ড, পিপিএফ (PPF) কিংবা এনপিএস (NPS)-এর মতো বিভিন্ন জায়গায় টাকা ছড়িয়ে রাখুন। প্রভিডেন্ট ফান্ডেও বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে রিটার্ন যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনই থাকবে স্থিতিশীলতা।
শেয়ারবাজারের জাদু:
মুদ্রাস্ফীতিকে টেক্কা দেওয়ার মোক্ষম অস্ত্র হল ইকুইটি বা শেয়ারবাজার। অল্প সময়ে ঝুঁকি থাকলেও, ১০ থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে এই ঝুঁকি অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। ইতিহাস সাক্ষী, মুদ্রাস্ফীতির হারের তুলনায় শেয়ারবাজার সবসময়ই কয়েক কদম এগিয়ে রিটার্ন দেয়।
এসআইপি ও স্টেপ-আপ
নিয়মিত এসআইপি (SIP)-র মাধ্যমে বিনিয়োগ চালিয়ে যান। বাজারের ওঠা-পড়া এতে গায়ে লাগবে না। সেই সঙ্গে প্রতি বছর আয় বাড়লে নিজের বিনিয়োগের পরিমাণও একটু একটু করে বাড়িয়ে দিন। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সহজ পাঠ হল, আপনার বর্তমান বার্ষিক খরচের অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সঞ্চয় করতে শিখলে কেল্লাফতে। তবে মনে রাখবেন, সেই হিসেবে যেন অবশ্যই মুদ্রাস্ফীতির হিসাব কষা থাকে। তবেই বার্ধক্যেও মিলবে আর্থিক স্বাধীনতার স্বাদ।