বন্দে ভারতের ব্রেকিং সিস্টেম ইউনিকসারা দেশের জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে রেলের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা আজও ভাবা সম্ভব নয়। এত বিরাট আকার নিয়েও টানা আপগ্রেড হয়ে চলেছে রেল। সেই তালিকায় অন্যতম সেরা সংযোজন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে এই সুপার ফাস্ট ট্রেনটি। লুক থেকে শুরু করে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য , গতি সব কিছুতেই দেশের অন্য প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিকে টেক্কা দিতে পারে এই স্পেশাল ট্রেনটি। তবে এর ব্রেকিং সিস্টেমও যে একেবারে ইউনিক তা জানতেন?
বন্দে ভারত ট্রেনের ব্রেকিং অন্য ট্রেনের ব্যবহৃত ব্রেকিং সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটা অনেকটা গাড়ির মতো কাজ করে। এই ব্যবস্থায় ইলেক্ট্রো-নিউম্যাটিক ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়। এই ব্রেকগুলো চাকার পাশে না থেকে, চাকার পাশাপাশি অবস্থিত থাকে।
যেহেতু এই ট্রেনের ব্রেকিং সিস্টেম বৈদ্যুতিকভাবে সঞ্চারিত, তাই এটি অন্য ট্রেনের তুলনায় দ্রুত কাজ করে এবং ব্রেক চাপার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়। আদতে এই ব্রেকিং সিস্টেমটি ডিস্ক ও ড্রাম ব্রেকযুক্ত একটি সাধারণ গাড়ির মতোই। এই কারণেই বন্দে ভারত ট্রেন অন্যান্য ট্রেনের চেয়ে বেশি নিরাপদ।
জরুরি অবস্থায় কীভাবে এই সিস্টেম ট্রেন থামায়?
বন্দে ভারত ট্রেনে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে যা জরুরি অবস্থায় ট্রেনটিকে সহজেই থামিয়ে দেয়। এটি গাড়ির মতোই ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ডিসটেন্স (EBD) দিয়ে সজ্জিত। এই ব্যবস্থাটি কোনও সমস্যা ছাড়াই জরুরি অবস্থায় দ্রুতগতির ট্রেনকে থামাতে পারে। অগাস্ট মাসে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক ভাবে করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, ট্রেনটি কোনও ক্ষতি ছাড়াই মসৃণভাবে থামতে সাহায্য করছে। তবে এখনও যাত্রীবাহী ট্রেনে প্রয়োগ করা হয়নি।
কীভাবে এই সিস্টেম থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
যখন কোনও ট্রেন হাই স্পিডে চলে এবং ব্রেক করা হয়, তখন ট্রেনের গতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তবে, বন্দে ভারতে ব্রেক করার সময় বৈদ্যুতিক মোটরটিকে জেনারেটর হিসাবে চালানো যেতে পারে। ট্রেনের চাকাগুলো মোটরটিকে ঘোরায়, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই বিদ্যুৎ রেলওয়ের ইলেকট্রিসিটি ব্যবস্থায় ফের সরবরাহ করা যেতে পারে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।