Government Employees Salary Hike: ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব! সরকারি কর্মীদের বেতন, DA, পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে নবান্ন

৫ শতাংশ বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির প্রস্তাব! সপ্তম পে কমিশনের শর্ত ঘোষণা নবান্নের, বাড়তে পারে সরকারি কর্মীদের বেতন-ভাতা।

Advertisement
৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব! সরকারি কর্মীদের বেতন, DA, পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে নবান্নবাড়তে পারে সরকারি কর্মীদের বেতন-ভাতা।
হাইলাইটস
  • সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর।
  • বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার মিনিমাম ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব।
  • বর্তমানে এই রেট ৩%।

West Bengal 7th Pay Commission: সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার মিনিমাম ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে সপ্তম পে কমিশনকে। বর্তমানে এই রেট ৩%(Minimum Increment Rate)। শুধু ইনক্রিমেন্ট নয়, ন্যূনতম বেতন, মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ, বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা এবং পদোন্নতির নিয়মেও বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের কাজের পরিধি এবং কী কী বিষয় কমিশনকে দেখতে হবে, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম দাবি ছিল নতুন বেতন কমিশন। সেই প্রক্রিয়াতেই এ বার আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। নতুন বেতন কাঠামো কী হবে, কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কত হওয়া উচিত, বছরে কত শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে; এ সমস্ত বিষয়েই আলোচনা চলছে।

৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট?
সপ্তম পে কমিশনের ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’-তে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়টি নিঃসন্দেহে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির হার। বর্তমানে সরকারি কর্মীদের বছরে ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। সেই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন।

মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি কর্মীদের বেতন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা-ও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী নতুন পে-ম্যাট্রিক্স তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

ন্যূনতম বেতনের নতুন হিসাব
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি করে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। পাশাপাশি দৈনিক ৩,৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে হিসাবের মধ্যে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

আগে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২,৭০০ ক্যালোরির মানদণ্ডের কথা বলা হত। নতুন প্রস্তাবে সেই হিসাব বদলানোর বিষয়টি রাখা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ এবং পরিবারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে।

Advertisement

কেন্দ্রের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য
সপ্তম পে কমিশনের কার্যপরিধিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও রয়েছে। একই পে লেভেলে কর্মরতদের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরে যতটা সম্ভব সমতা আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে কমিশন।

অপ্রয়োজনীয় বা অচল হয়ে যাওয়া বেতন স্তর একত্রিত করা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো আরও সহজ এবং স্পষ্ট হবে। যে কেউ হিসেব করতে পারবেন। 

ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব(West Bengal DA)
মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ-র ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচক বা AICPI-এর ভিত্তিতে ডিএ-র সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত ভাবে ডিএ দেওয়ার জন্য একটি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ করার সুপারিশ করা যায় কি না, সেটিও দেখা হবে। সপ্তম পে কমিশন কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ নির্ধারণের বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

বাড়িভাড়া, পরিবহণ ও অন্যান্য ভাতা
সরকারি কর্মীদের বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি-সহ বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ এবং নিয়মও নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় পে কমিশনের কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে এই ভাতাগুলিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা নিয়ে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেটিও পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কর্মীদের মাসিক বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।

পেনশন এবং অবসরকালীন সুবিধাতেও বদল
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বিষয়টিও সপ্তম পে কমিশনের আওতায় রাখা হয়েছে। কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবসরের সময় জমে থাকা ছুটি ক্যাশ করা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে।

এ ছাড়াও ৩০ জুন অবসর নেওয়া সরকারি কর্মীদের একটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও পেনশনভোগীরা উপকৃত হতে পারেন।

বদল আসতে পারে কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্টেও
কর্মীদের কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিমেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে ৮, ১৫ এবং ২৪ বছরের তিনটি ধাপ রয়েছে। তার বদলে ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছরের পাঁচটি ধাপ চালু করা যায় কি না, তা বিবেচনা করবে কমিশন।

স্বাস্থ্য প্রকল্পে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা, চিকিৎসকদের ফি বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কমিশনের কার্যপরিধিতে রাখা হয়েছে।

২০২৭ সালের টার্গেট
অর্থাৎ, সপ্তম পে কমিশনকে শুধুমাত্র বেতন বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বেতন কাঠামো থেকে ডিএ, বিভিন্ন ভাতা, পদোন্নতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অবসরকালীন সুবিধা; সরকারি কর্মীদের চাকরি সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিঃসন্দেহে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব। এখন কমিশনের সুপারিশ কী হয়, তার দিকেই নজর কর্মীদের। সরকারের তরফে ২০২৭ সালে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্য জানানো হয়েছে। ফলে আগামিদিনে কমিশনের রিপোর্ট এবং তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সপ্তম পে কমিশন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে ডিএ এবং বেতন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন বার বার দাবি জানিয়ে এসেছে। নতুন বিজ্ঞপ্তির পরে সেই প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তবে প্রস্তাবগুলি এখনও চূড়ান্ত বেতনবৃদ্ধি বা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নয়। কমিশনের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের পরই বিষয়গুলি আরও স্পষ্ট হবে। 

POST A COMMENT
Advertisement