যুবশক্তি ও বার্ধক্য ভাতা কবে মিলবে?পূর্ববর্তী সরকারের সময় চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না, ক্ষমতায় এসেই জানিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেইমতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে এসেছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। তৃণমূল সরকারের আনা যুবসাথী প্রকল্পের বদলে বেকাররা যুবশক্তি ভরসা কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছিল বিজেপি সরকার। তবে এতদিন এই নিয়ে কোনো আপডেট মেলেনি। এবার এই বেকারভাতা নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপির ছাব্বিশের ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী, যুবশক্তি স্কিমের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই বিশেষ ভাতার বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য সরকার। যুবসাথীর ১৫০০ টাকা নয়, এই স্কিমের অধীনে জ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের তিন তিন হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কবে চালু হবে 'যুব শক্তি ভরসা' কার্ডের টাকা দেওয়া? কারা পাবেন এই সুবিধা? এবার যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন মখ্যমন্ত্রী।
কবে চালু হচ্ছে যুবশক্তি ভরসা কার্ড?
গত শুক্রবার মালদায় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা করেছি। বার্ধক্য ভাতা এবং যুবশক্তি নিয়ে আমাদের কাজ এগোচ্ছে, খুব শীঘ্রই চালু হবে।' অর্থাৎ এ থেকে স্পষ্ট যে, হয়তো এই মাস কিংবা আগামী মাসের মধ্যেই যুবশক্তি ভরসা কার্ড শুরু হবে এবং রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাবেন। এমনকি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিজেপি সরকার এককালীন ১৫,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি।
কারা পাবেন যুবশক্তি ভরসা কার্ড?
নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতী তথা যাঁরা চাকরির পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে যুবশক্তি কার্ডের ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। তাও আবার DBT-র মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা। এই ভাতার পরিমাণ ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগের সরকার দিত ১,৫০০ টাকা। নতুন সরকার দেবে ৩,০০০ টাকা। বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, আগে থেকে যারা যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন তাঁদেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যুবশক্তির সরাসরি টাকা পৌঁছবে। কিন্তু অবশ্যই ডিবিটি লিঙ্ক থাকতে হবে। তবে নতুন উপভোক্তারাও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সেইসঙ্গে পুরনো যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করেই এই ভাতা দেওয়া হবে। সবদিক বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কারা পাবেন যুবশক্তির টাকা?
সবকিছু ঠিক থাকলে জুন মাস থেকেই এই প্রকল্প চালু হতে পারে। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস হতে হবে (তবে নতুন সরকার চূড়ান্ত নির্দেশিকায় এই যোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনও রদবদল আনে কিনা, সেটাই এখন দেখার)। পুরনো 'যুবশ্রী' প্রকল্পের উপভোক্তা হোন বা নতুন আবেদনকারী— এই সুবিধে পেতে গেলে সবাইকেই নতুন করে আবেদন করতে হবে।
৩০০০ টাকা পেতে গেলে অবশ্যই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে-
প্রথমত, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
তৃতীয়ত, আবেদনকারীকে নূন্যতম মাধ্যমিক পাশ করতে হবে।
চতুর্থত, আবেদনকারীকে বর্তমানে কর্মহীন থাকতে হবে, অর্থাৎ কোনও কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত থাকা যাবে না।
কীভাবে আবেদন আর কী কী ডকুমেন্ট দরকার?
জানা যাচ্ছে, আবেদনকারীদের মধ্যে যাতে কোনও বেনোজলে ঢুকে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে তবেই এই প্রকল্প শুরু করবে। নতুন করে যাঁরা অ্যাপ্লাই করছেন এবং পুরনো যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে তবেই এই ভাতা দেওয়া হবে। তাই সব দিক বিবেচনা করে রাজ্যের নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকার যুবসাথীর উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এই গোটা প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে চালানো হবে। যাতে শুধুমাত্র উপযুক্ত এবং যোগ্য উপভোক্তারাই এই যুবশক্তি ওরকল্পের অধীনে সুবিধা পান তা দেখা হবে। যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন তাঁরা কেউ যেন বঞ্চিত না হন। সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য সরকার। আবেদন করতে প্রয়োজন যেসব নথি-
যুবশক্তি ভরসা কার্ড পেতে আবেদন করতে হলে তাঁর কাছে বৈধ ভোটার কার্ড, আধার কার্ড প্রয়োজন। বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার ডকুমেন্ট হিসেবে মার্কশিটের কপি থাকতে হবে। সেইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তোলা পাসপোর্ট সাইজের পরিষ্কার ছবি এবং সঠিক মোবাইল নম্বর (আধার সংযুক্ত) অবশ্যই থাকতে হবে। নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। যেটির সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক বাধ্যতামূলক।
নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রয়োজন হতে পারে---
বয়সের শংসাপত্র (Birth Certificate/Admit Card)।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র (মাধ্যমিক বা সমতুল্য পাসের সার্টিফিকেট)।
স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিকত্বের শংসাপত্র (Aadhaar/Voter Card) নিজস্ব সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর।
কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, যুবশক্তি ভরসা কার্ডের পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করতে চলেছে। এই পোর্টালের মাধ্যমেই অনলাইনে ঘরে বসে আবেদন করা যাবে এবং আবেদনের স্টেটাস বা আপডেট ট্র্যাক করা যাবে। প্রসঙ্গত, ‘যুবশক্তি যোজনা’র অফিশিয়াল পোর্টাল চালু হয়ে গেলেও এই নতুন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীরা ঠিক কবে থেকে টাকা পাবেন সেই বিষয় স্পষ্ট নয়।
সম্প্রতি এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন, যুবকদের যে ভাতা দেওয়ার কথা, সেটা শীঘ্রই শুরু হবে। তার জন্য সমীক্ষা চলছে। উল্লেখ্য, পূর্বের মমতা সরকারের যুবসাথীর বদলে প্রথম বিজেপি সরকার নিয়ে এসেছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’। ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল সরকার যুবসাথী প্রকল্প এনেছিল রাজ্যে। যার মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ১৫০০ টাকা বেকারভাতাও প্রদান করা হয়েছিল।