যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, আবেদন এবং Samarth পোর্টালে স্ট্যাটাস ও পেমেন্ট দেখার নিয়ম সহজ ভাষায় জেনে নিন।West Bengal Pension Scheme: মাসে মাসে ভাতার টাকার অপেক্ষায় থাকেন রাজ্যের বহু বয়স্ক মানুষ এবং বিধবা মহিলা। সংসারে নিয়মিত আয় নেই, নিজের রোজগার করার ক্ষমতাও নেই; এমন মানুষের কাছে সরকারি পেনশনের টাকা অনেকটাই ভরসার। সেই কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক পেনশনের টাকা বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকে নতুন হারে এই ভাতা কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, আগে যে উপভোক্তারা মাসে ১,০০০ টাকা পেতেন, তাঁদের মাসিক ভাতার অঙ্ক বেড়ে ১,৫০০ টাকা হয়েছে। এই টাকা Direct Benefit Transfer বা DBT সিস্টেমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
তবে শুধু বয়স হলেই যে প্রত্যেকে বার্ধক্য ভাতা পাবেন, বা বিধবা হলেই যে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে, তা নয়। রয়েছে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম। আবার আবেদন করার সময় কিছু নথিও প্রয়োজন হয়।
তাহলে পশ্চিমবঙ্গে Old Age Pension বা বার্ধক্য ভাতা কারা পাবেন? বিধবা ভাতার নিয়ম কী? কী ভাবে আবেদন করতে হবে? আবেদন করার পরে টাকা এসেছে কি না, তা কীভাবে দেখবেন? সহজ ভাষায় জেনে নিন।
১ অগাস্ট থেকে ১,৫০০ টাকা
সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের টাকা বাড়ানোর ঘোষণা বাজেটেই করা হয়েছিল। পরে সরকারি নির্দেশিকা জারি করে নতুন হারে টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকে মাসিক পেনশনের অঙ্ক ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই টাকা DBT-র মাধ্যমে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ফলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
রাজ্য সরকারের Samarth পোর্টালেও সামাজিক পেনশন প্রকল্পগুলির উপভোক্তা এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়।
কারা বার্ধক্য ভাতা পাবেন?
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য Old Age Pension বা বার্ধক্য পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোন প্রকল্পের অধীনে আবেদন করছেন, তার উপর অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় Indira Gandhi National Old Age Pension Scheme বা IGNOAPS-ও রয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে দরিদ্র প্রবীণদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
আবার রাজ্যে আলাদা সামাজিক পেনশন প্রকল্পও রয়েছে। যেমন, Taposili Bandhu প্রকল্পে আর্থিকভাবে দুর্বল SC সম্প্রদায়ের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণরা নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন পান।
তাই শুধু ‘৬০ বছর বয়স হয়েছে’ বলেই আবেদন করলেই টাকা নিশ্চিত; এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার ক্ষেত্রে কোন পেনশন প্রকল্প প্রযোজ্য, সেটি আগে জানা দরকার।
বিধবা ভাতা(Widow Pension Scheme) কারা পাবেন?
বিধবা পেনশন মূলত স্বামীহারা আর্থিকভাবে অসহায় মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।
বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স, রাজ্যের বাসিন্দা হওয়া, আর্থিক পরিস্থিতি এবং অন্য কোনও পেনশন নেওয়া হচ্ছে কি না; এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে এবং আবেদনের সময় অন্তত ১০ বছর রাজ্যে বসবাসের শর্ত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অন্য কোনও নির্দিষ্ট সরকারি পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী হলে যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
অর্থাৎ, বিধবা ভাতা আর বার্ধক্য ভাতা এক জিনিস নয়। কোন প্রকল্পে আপনি আবেদন করবেন, সেই অনুযায়ী নিয়ম দেখতে হবে।
একই সঙ্গে অন্য পেনশন পাওয়া যাবে?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনও ব্যক্তি ইতিমধ্যেই অন্য একটি সরকারি পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পেলে একই ধরনের আর একটি পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
যেমন, একই ব্যক্তির নামে একাধিক সামাজিক পেনশন চালু করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়মের উপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার সময় নিজের সমস্ত তথ্য সঠিক ভাবে জানানো জরুরি।
ভুল তথ্য দিয়ে একাধিক প্রকল্পে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে পরে সমস্যা হতে পারে।
বার্ধক্য বা বিধবা ভাতার জন্য কী কী কাগজ লাগতে পারে?
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখলে কাজ অনেক সহজ হয়। সাধারণত এগুলির প্রয়োজন হতে পারে;
তবে সব প্রকল্পে একই নথি লাগবে না। আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট দফতর যে নথি চাইবে, সেটিই জমা দিতে হবে।
এখন নতুন করে আবেদন করা যাচ্ছে?
আবেদন প্রক্রিয়া সব সময় খোলা থাকে না। নির্দিষ্ট সময়ে শিবির বা সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হতে পারে।
তাই কেউ যদি এখন নতুন করে বার্ধক্য ভাতা বা বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে নিজের BDO অফিস, পঞ্চায়েত সমিতি, পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে খোঁজ নেওয়া ভাল।
জনকল্যাণ শিবিরের মতো সরকারি উদ্যোগে আবেদন নেওয়া হলে সেখানে ফর্ম পাওয়া এবং তা পূরণে সরকারি কর্মীদের সাহায্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
কোথায় আবেদন করবেন?
গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় BDO অফিস বা পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরসভা বা নির্দিষ্ট সরকারি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে আলাদা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রক্রিয়া হতে পারে।
সবচেয়ে ভাল, আবেদন করার আগে নিজের এলাকার পঞ্চায়েত বা পুরসভায় গিয়ে জেনে নেওয়া; কোন প্রকল্পে আবেদন করতে হবে এবং বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না।
আবেদন করার পরে স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
এখন অনেকেই জানতে চান, আবেদন করার পরে ফাইল কোথায় আটকে আছে? টাকা অনুমোদন হয়েছে কি না? ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানো হয়েছে কি না?
এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Samarth পোর্টালে Track Applicant & View Payment Status এর ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি পোর্টালে Beneficiary ID, মোবাইল নম্বর অথবা Aadhaar নম্বর দিয়ে খোঁজা যায়।
বার্ধক্য ভাতার স্ট্যাটাস দেখার সহজ পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Samarth পোর্টালে যান।
দ্বিতীয় ধাপ: ‘Track Applicant & View Payment Status’ অপশনটি খুলুন।
তৃতীয় ধাপ: আপনার যে পেনশন প্রকল্প, সেটি Scheme অপশন থেকে বেছে নিন।
চতুর্থ ধাপ: ‘Search Using’ অপশনে Beneficiary ID, Mobile No. অথবা Aadhaar No. বেছে নিন।
পঞ্চম ধাপ: আপনার নম্বরটি লিখুন।
ষষ্ঠ ধাপ: স্ক্রিনে দেওয়া Captcha ঠিক ভাবে পূরণ করুন।
সপ্তম ধাপ: Search-এ ক্লিক করুন।
এর পর আবেদন বা উপভোক্তার তথ্য দেখা যেতে পারে। একই পেজে Payment Status দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
টাকা না ঢুকলে কী করবেন?
মাসের টাকা ব্যাঙ্কে না ঢুকলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করুন।
প্রথমে দেখুন, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ আছে কি না। ব্যাঙ্কে দেওয়া নাম এবং আধারের তথ্যের মধ্যে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করুন।
এর পর Samarth পোর্টালে গিয়ে Payment Status দেখুন। সেখানে যদি টাকা পাঠানোর তথ্য না থাকে, তা হলে স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে যোগাযোগ করুন।
অনেক সময় নথি যাচাই, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সমস্যা বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে টাকা পেতে দেরি হতে পারে।
মনে রাখবেন
১,৫০০ ভাতা পেতে কেউ যেন কোনও দালালকে টাকা না দেন। সরকারি পেনশন পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নগদ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন। আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবই এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন। আবেদন করার পরে Beneficiary ID বা প্রয়োজনীয় তথ্য নিজের কাছে রেখে দিন। পরে সেটিই দিয়ে স্ট্যাটাস খুঁজে দেখতে সুবিধা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক পেনশনের নিয়ম এক নয়। তাই অন্যের কথা শুনে নিজের আবেদন করবেন না। নিজের এলাকার সরকারি অফিস বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট পোর্টাল থেকে তথ্য যাচাই করেই পদক্ষেপ করুন।