
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে বেহাল দশা থেকে টেনে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও রেফার, চিকিৎসার গাফিলতি সব একাধিক ক্ষেত্রে উন্নত পরিষেবা প্রদানের কথা জানিয়েছেন। এবার আরও এক বড় ঘোষণা করা হল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। জানানো হল, বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ। কীভাবে?
বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা
জরুরি প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ থাকবে। অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতিতে যদি বেড না পাওয়া যায়, তাহলে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যাবে। এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। এমনটাই ডক্টর্স ডে-এর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেলে বেসরকারি হাসপাতালেই মিলবে চিকিৎসা পরিষেবা। শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১০ শতাংশ বেডে বিনামূল্যে পরিষেবা মিলবে বলে জানান তিনি। এমনকী এই পরিষেবা পেতে কোনও কার্ডও দেখাতে হবে না। শুধুমাত্র আধার কার্ড থাকলেই হবে। এমনটাই জানানো হয়েছিল। সেই ঘোষণায় সিলমোহল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড়সড় গাফিলতি থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই বহু মানুষকে এখন বাইরের রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘ভেলোর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদে সর্বত্র শুধু বাঙালি, গরিব মানুষকে দেখতে পাই। কেন, এ রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? এত হস্তক্ষেপ, এত দমনপীড়ন, চিকিৎসাব্যবস্থা এত অবহেলিত! এটা কি কাম্য ছিল? কী করে রেখেছেন হাসপাতালগুলোর অবস্থা?’ শুভেন্দু জানান, রাজ্যে পালাবদলে ভয়-ভীতি দূর হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকীর্ণ রাজনীতি থাকবে না। এখানে আমরা-ওরা থাকবে না। সমস্ত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।’