চোখের স্ক্যান ছাড়া কি রেশন পাবেন না? জানুন নিয়ম। West Bengal Ration News: রেশন তুলতে গেলে এবার কি শুধু আঙুলের ছাপ নয়, চোখের মণিও স্ক্যান করতে হবে? মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে নতুন 'স্মার্ট PDS' সিস্টেম(Smart PDS App)। সঙ্গে আসছে আইরিস (চোখের মণি) স্ক্যানের নিয়মও। সব মিলিয়ে রেশন সিস্টেমে(Smart Ration System) বড় পরিবর্তন আসছে। তাহলে কি, চোখের স্ক্যান না হলে কি রেশন মিলবে না? এই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে খাদ্য দফতর।
মঙ্গলবার থেকেই 'স্মার্ট PDS' অ্যাপের মাধ্যমে রেশন ডিস্ট্রিবিশন শুরু হবে। খাদ্য দফতরের দাবি, এই নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের ফলে রেশন বণ্টন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জালিয়াতিমুক্ত হবে। যিনি রেশন নিচ্ছেন, তাঁর পরিচয় যাচাইয়ে জোর দিচ্ছে সরকার। আর সে কারণেই চোখের মণি স্ক্যানে জোর দেওয়া হবে। কারণ, চোখের মণির তথ্য দিয়ে পরিচয় যাচাই অনেক বেশি নির্ভুল। দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।
কিন্তু কারও যদি ছানি বা চোখের কোনও সমস্যা থাকে? চিন্তা করবেন না। কোনও কারণে যদি আইরিস স্ক্যান সফল না হয়, তা হলেও রেশন থেকে বঞ্চিত হবেন না। আগের মতোই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে রেশন দেওয়া হবে। অর্থাৎ আইরিস স্ক্যান বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু সুযোগ থাকলে এটিও করে নেবেন রেশন ডিলাররা।
ময়নাগুড়ি খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নতুন অ্যাপে দ্রুত আধার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে ভুয়ো রেশন কার্ড, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড বা মৃত ব্যক্তির নামে রেশন তোলার মতো অনিয়ম অনেকটাই কমবে।
আইরিশ স্ক্যানের বিরোধিতাও হচ্ছে
আইরিস স্ক্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কও শুরু হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই রাজ্যের খাদ্যসচিব রেশন বিতরণে আইরিস যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আধার আইনের মধ্যে পড়ে না, দাবি 'অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন'। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বিষয়টি কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়াকে জানান।
উত্তরে কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব স্পষ্ট জানান, আধার আইনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপই প্রথম অগ্রাধিকার। আইরিস স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা যাবে না। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্মার্ট রেশন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ৪ অগাস্ট পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসার কথাও রয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিবের।
অগাস্ট মাস থেকেই ধাপে ধাপে 'স্মার্ট' রেশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এমতাব্যবস্থায় ডিস্ট্রিবিউটর থেকে রেশন দোকান পর্যন্ত খাদ্যশস্য সরবরাহ, স্টক ম্যানেজমেন্ট, রেশন কার্ড ম্যানেজ এবং রেশন ডিস্ট্রিবিউশন; প্রায় সব কাজই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে। এর ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে। সবকিছুর ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে।
একই সঙ্গে রেশন কার্ড ভেরিফিকেশনেরও কাজও চলছে। সরকারি সূত্রের দাবি, বহু ভুয়ো ও অযোগ্য রেশন কার্ড ধরা পড়ছে। আবার যেসব রেশন কার্ড নথির সমস্যার কারণে ব্লক হয়ে গিয়েছিল, সেগুলিও যাচাইয়ের পর পুনরায় চালু করা হচ্ছে।