চেক বাউন্স হলে কী করণীয়?বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন সবচেয়ে বেশি হলেও, বড় লেনদেন, ভাড়া মেটানো, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজের জন্য আজও চেকের ব্যবহার হয়ে থাকে। যদি চেক ব্যাঙ্কে জমা করার পর যদি সেটা ক্লিয়ার না হয়ে ফেরত চলে আসে, সেটাকে চেক বাউন্স (Cheque Bounce) বা প্রত্যাখাত চেক বলা হয়। এটি শুধু ব্যাঙ্কিং সমস্যাই নয়, কিছু ক্ষেত্রে এটি আইনি বিবাদের কারণও হতে পারে। তাই চেক বাউন্স সম্পর্কে কিছু তথ্য সকলের জেনে রাখা উচিত।
চেক বাউন্স হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল চেকটি ক্লিয়ার করার জন্য অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা। এছাড়াও অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুল সই, তারিখের গণ্ডগোল, কোনও লেখার ওপর আরেকটি লেখা, লেখা ও সংখ্যায় মুদ্রন ত্রুটি, ছেঁড়া চেক, পোস্ট-ডেটে চেক মেয়াদপূর্তির আগে জমা দেওয়া, অথবা তিন মাসের বেশি পুরোনো চেক জমা দেওয়া। যেসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতেও চেক ক্লিয়ার নাও হতে পারে।
চেক বাউন্স হলেই কি আইনি পদক্ষেপ
প্রতিটি চেক বাউন্স হওয়ার কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হয় না। যদি চেকে শুধুমাত্র কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, তারিখের ভুল বানান বা সইতে ভুল থাকে, তবে সেটি ফেরত পাঠিয়ে সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু যদি কোনও ঋণ পরিশোধের জন্য চেকটি দেওয়া হয় এবং অ্যাকাউন্টে অপর্যাপ্ত টাকার কারণে তা বাউন্স করে, তবে এটি একটি আইনি বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাঙ্ক কত জরিমানা ধার্য করে
যখন কোনও চেক বাউন্স করে, তখন ব্যাঙ্ক চেক প্রদানকারীর পক্ষের কাছ থেকে চার্জ আদায় করে। এই চার্জ সব ব্যাঙ্কে সমান হয় না। বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব নিয়মকানুনের ওপর ভিত্তি করে তাদের চার্জের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
আইনি পদক্ষেপ কখন শুরু হয়
অপর্যাপ্ত ব্যালেন্সের কারণে কোনও চেক প্রত্যাখ্যাত হলে, ব্যাংক চেক প্রাপককে একটি ফেরত মেমো ইস্যু করে, যেখানে চেকটি ক্লিয়ার না হওয়ার কারণ উল্লেখ করা থাকে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে চেক প্রদানকারীর কাছে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কোনো উত্তর না পাওয়া গেলে, আদালতে মামলা করা যেতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত জরিমানা, চেকের অর্থ আদায়, এমনকি শাস্তিরও আদেশ দিতে পারে।