AC vs Fridge vs Washing Machine: এসি, ওয়াশিং মেশিন, নাকি ফ্রিজ? কোনটি সবচেয়ে বেশি কারেন্ট খায়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় ইলেকট্রনিক্স জিনিস ছাড়া একদিনও চলেই না। তবে মাস শেষে বিদ্যুতের বিল হাতে পেলেই অনেকের কপালে ভাঁজ পড়ে। এসি, ওয়াশিং মেশিন এবং ফ্রিজ; এই তিনটি যন্ত্রই প্রতিটি ঘরে প্রায় নিত্যদিনের সঙ্গী।

Advertisement
এসি, ওয়াশিং মেশিন, নাকি ফ্রিজ? কোনটি সবচেয়ে বেশি কারেন্ট খায়?এসি, ফ্রিজ না ওয়াশিং মেশিন, কোনটি বেশি কারেন্ট খায়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় ইলেকট্রনিক্স জিনিস ছাড়া একদিনও চলেই না। তবে মাস শেষে বিদ্যুতের বিল হাতে পেলেই অনেকের কপালে ভাঁজ পড়ে। এসি, ওয়াশিং মেশিন এবং ফ্রিজ; এই তিনটি যন্ত্রই প্রতিটি ঘরে প্রায় নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু এদের মধ্যে ঠিক কোন যন্ত্রটি সবচেয়ে বেশি কারেন্ট বা বিদ্যুৎ শোষণ করে? আর কোন যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক না হলে বিদ্যুতের বিল আকাশ ছোঁয়া হতে পারে? বিষয়টি বিস্তারিত বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

ওয়াট (Wattage) এবং ব্যবহারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র কতখানি বিদ্যুৎ খরচ করে, তার একটি স্পষ্ট হিসেব নিচে আলোচনা করা হলো:

১. এয়ার কন্ডিশনার বা এসি (Air Conditioner) 
গৃহস্থালির সমস্ত সরঞ্জামের মধ্যে বিদ্যুতের বিল বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক নম্বর অপরাধী হলো এয়ার কন্ডিশনার।

বিদ্যুৎ খরচের হার: একটি দেড় টন (1.5 Ton) সাধারণ বা ইনভার্টার এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ ওয়াট (1.5 - 2 kW) বিদ্যুৎ টানতে পারে।

মাসিক খরচ: গ্রীষ্মকালে একটি এসি যদি দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চলে, তবে শুধুমাত্র এসির জন্যই মাসে প্রায় ৩০০ থেকে ৪৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

কারণ: ঘরকে দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য কম্প্রেসরকে অনবরত উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করতে হয়, যা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ টানে।

২. ওয়াশিং মেশিন (Washing Machine) 
অনেকের মনেই ধারণা থাকে যে ওয়াশিং মেশিন হয়তো খুব বেশি বিদ্যুৎ টানে না। কিন্তু আসল সত্যটি ধোলাইয়ের মোডের ওপর নির্ভর করে।

বিদ্যুৎ খরচের হার: সাধারণ ওয়াশিং মেশিন কাচার সময় প্রায় ৫০০ থেকে ৮০০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। কিন্তু আপনি যদি 'হট ওয়াটার ওয়াশ' (Hot Water Wash) বা জল গরম করে কাপড় কাচার মোড ব্যবহার করেন, তবে এর ওয়াটেজ বেড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে!

মাসিক খরচ: প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে ওয়াশিং মেশিন চললে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে প্রতিদিন গরম জলে হিটার চালিয়ে কাপড় কাচলে এই খরচ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

Advertisement

৩. রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ (Refrigerator)
ফ্রিজ এমন একটি যন্ত্র যা বছরে ৩৬৫ দিন এবং দিনে ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। তাই অনেকেরই মনে হয় ফ্রিজই হয়তো সবচেয়ে বেশি বিল বাড়ায়, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন।

বিদ্যুৎ খরচের হার: একটি মাঝারি মাপের (২৫০-৩০০ লিটার) আধুনিক ফ্রিজ গড়ে ১৫০ থেকে ২৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ টানতে পারে।

মাসিক খরচ: সারাদিন চালু থাকলেও ইনভার্টার প্রযুক্তির আধুনিক ফ্রিজগুলি দিনে মাত্র ১.৫ থেকে ২.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে পুরো মাসে ফ্রিজের জন্য গড়ে ৪০ থেকে ৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

কারণ: ফ্রিজ একটানা উচ্চ শক্তিতে চলে না। ভেতরের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় থাকলে কম্প্রেসর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ বা কাট-অফ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
১. এসি ব্যবহারের নিয়ম: এসি সব সময় তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালিয়ে ব্যবহার করুন। এতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুতের বিল প্রায় ২৫-৩০% পর্যন্ত কম হতে পারে।

২. স্টার রেটিং দেখে কিনুন: যেকোনো বড় ইলেকট্রনিক যন্ত্র কেনার সময় সবসময় বিইই ৫-স্টার (BEE 5-Star) বা ইনভার্টার প্রযুক্তি যুক্ত মডেল বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। 

POST A COMMENT
Advertisement