পিএফ ট্রান্সফারএখন প্রাইভেট চাকরি করা মানুষের সংখ্য়াই বেশি। আর সেক্ষেত্রে অনেকেই নিয়মিত চাকরি বদলে নেন। এক কোম্পানি থেকে অন্য জায়গায় সুইচ করেন। আর আপনিও যদি নিয়মিত চাকরি বদলে থাকেন, তাহলে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) স্কিমের টাকাও ট্রান্সফার করে ফেলা দরকার।
আসলে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)-এর অধীনে পরিচালিত ইপিএস স্কিমে কর্মী ও নিয়োগকর্তা, দুইজনেই মাসে মাসে কন্ট্রিবিউট করেন। তার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় গড়ে ওঠে। জমা টাকার ওপর প্রতি বছর সুদও জুড়ে যায়। সঞ্চয় বাড়তে থাকে।
প্রসঙ্গত, ইপিএফ-এর টাকা সরাসরি বেতন থেকে কাটা হয়। এটির দেখভাল করে নিয়োগকর্তা। তাই অনেক কর্মীই নিয়মিত নিজের অ্যাকাউন্ট দেখেন না। ফলে যাঁরা ঘনঘন চাকরি বদলান, তাঁদের একাধিক পিএফ অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যায়। কত টাকা জমেছে, তখন তার হিসেব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
কেন পিএফ ট্রান্সফার জরুরি?
যখনই কোনও কর্মী কোনও নতুন সংস্থায় যোগ দেন, তখন একটি নতুন মেম্বার আইডি তৈরি হয়। তবে এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট একটি ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন)-এর অধীনে যুক্ত করা যায়, যা কর্মজীবন জুড়ে একই থাকে।
তাই বিভিন্ন মেম্বার আইডিতে টাকা আলাদা করে না রেখে পুরনো অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন অ্যাকাউন্টে পিএফ ট্রান্সফার করা উচিত। এতে ইউএএন-এর অধীনে সব টাকা এক জায়গায় থাকে। এতে পাসবুক দেখা, অবদানের আপডেট পাওয়া ও অনলাইনে ক্লেম করা অনেক সহজ হয়।
আর্থিক ক্ষতি হতে পারে
ইপিএফও-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মী টানা পাঁচ বছর কাজ করলে পিএফ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে সাধারণত কর লাগে না। কিন্তু পুরনো তথ্য নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার না করলে চাকরির ধারাবাহিকতা ঠিকভাবে ধরা নাও পড়তে পারে। যার ফলে টাকা তোলার সময় ট্যাক্স কাটা হতে পারে।
একইভাবে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস)-এর অধীনে ১০ বছর পূর্ণ করলে পেনশন পাওয়া যায়। তাই পিএফ ট্রান্সফারের মাধ্যমে আগের চাকরির পরিষেবার বছরগুলো যোগ করলে পেনশনের হিসেবেও সুবিধা হয়।
কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা হাতছাড়া করবেন না
বর্তমানে ইপিএফও ইপিএফ-তে বছরে ৮.২৫% সুদ পাওয়া যায়। সব টাকা এক জায়গায় থাকলে এই সুদের প্রভাব বেশি হয়। সঞ্চয় দ্রুত বাড়ে। যদিও একাধিক অ্যাকাউন্টেও সুদ পাওয়া যায়, তবুও একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে হিসেব রাখা ও পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে যায়।
এছাড়াও কোনও ইপিএফ অ্যাকাউন্টে টানা ৩৬ মাস ক্লেম না জমা পড়লে সেটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তখন সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বা ট্রান্সফার করা জটিল হতে পারে।
সহজ ক্লেম মিলবে
সব পিএফ অ্যাকাউন্ট একটি ইউএএন-এর অধীনে একত্রিত করলে টাকা তোলা, ট্রান্সফার এবং ক্লেমের কাজ বেশ সহজ হয়। এতে পুরনো টাকার হিসেব হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।