Yamaha FZ-S, Pulsar N160 না Apache 160 4V, এই সেগমেন্টের সেরা বাইক কোনটি?

Best Commuter Bike India: FZ-S Fi Hybrid-এর দাম কিন্তু বাজাজ Pulsar N160 এবং TVS Apache RTR 160 4V-এর তুলনায় বেশি। সত্যিই কি তার কোনও কারণ আছে? আসুন এক নজরে তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটু তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

Advertisement
Yamaha FZ-S, Pulsar N160 না Apache 160 4V, এই সেগমেন্টের সেরা বাইক কোনটি?আসুন এক নজরে তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটু তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।
হাইলাইটস
  • লুক, ফিল, কনট্রোল, মাইলেজ, পিকআপ; সব দেখেই লোকে বাইক কেনে।
  •  FZ-S Fi Hybrid-এর দাম কিন্তু বাজাজ Pulsar N160 এবং TVS Apache RTR 160 4V-এর তুলনায় বেশি।
  • আসুন এক নজরে তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটু তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

Best Commuter Bike India: এখন ইয়ামাহার সবচেয়ে দামি কমিউটার মোটরসাইকেল FZ-S Fi Hybrid। হাইব্রিড প্রযুক্তি, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং TFT ডিসপ্লে। ফিচারে ভরপুর। কিন্তু শুধু ফিচার দেখে কেউ বাইক কেনেন না। বাইকের লুক, ফিল, কনট্রোল, মাইলেজ, পিকআপ; সব দেখেই লোকে বাইক কেনে। দামটাও বড় ফ্যাক্টর। FZ-S Fi Hybrid-এর দাম কিন্তু বাজাজ Pulsar N160 এবং TVS Apache RTR 160 4V-এর তুলনায় বেশি। সত্যিই কি তার কোনও কারণ আছে? আসুন এক নজরে তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটু তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্সে কে এগিয়ে?
Yamaha FZ-S Fi Hybrid-এ ১৪৯ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ১২.৪ বিএইচপি পাওয়ার এবং ১৩.৩ এনএম টর্ক জেনারেট করে। অন্য দিকে, Bajaj Pulsar N160-এ রয়েছে ১৬৪.৮ সিসির ইঞ্জিন, যা ১৬ বিএইচপি পাওয়ার এবং ১৪.৬ এনএম টর্ক দেয়।

সবচেয়ে পাওয়ারশালী ইঞ্জিন রয়েছে TVS Apache RTR 160 4V-এ। ১৫৯.৭ সিসির এই মোটরসাইকেল ১৭.৫ বিএইচপি পাওয়ার এবং ১৪.৭ এনএম টর্ক জেনারেট করতে সক্ষম।

ইয়ামাহার দাবি, FZ-S Hybrid-এর ইন্টিগ্রেটেড স্টার্টার জেনারেটর এবং ইলেকট্রিক অ্যাসিস্ট প্রযুক্তি জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করবে। তবে কাগজে-কলমে পারফরম্যান্সের নিরিখে Apache RTR 160 4V-ই সবচেয়ে এগিয়ে। অর্থাৎ হাই পিক আপের বাইক চাইলে এখনও অ্যাপাচের বিকল্প নেই।

ওজন ও মাপের নিরিখে
তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে Yamaha FZ-S Fi Hybrid সবচেয়ে হালকা। এর ওজন মাত্র ১৩৮ কেজি। ফলে শহরের রাস্তায় চালাতে তুলনামূলক বেশি সুবিধা হতে পারে।

অন্য দিকে Bajaj Pulsar N160-এর ওজন ১৫২ কেজি। যদিও বেশি ওজনের বদলে এই বাইকে রয়েছে ১৪ লিটারের বড় ফুয়েল ট্যাঙ্ক। TVS Apache RTR 160 4V মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

সিট হাইট, গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং হুইলবেসের ক্ষেত্রেও তিনটি বাইকের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে Apache-এর হুইলবেস সবচেয়ে বেশি হওয়ায় উচ্চ গতিতে স্থিতিশীলতা কিছুটা বেশি পাওয়া যেতে পারে।

Advertisement

সাসপেনশন, ব্রেক ও টায়ারে পার্থক্য 
তিনটি মোটরসাইকেলেই টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং মনোশক সাসপেনশন রয়েছে। তবে Pulsar N160-এ দুই চাকাতেই রেডিয়াল টায়ার দেওয়া হয়েছে, যা গ্রিপের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

ইয়ামাহার বাইকে ডিস্ক ব্রেক থাকলেও ডুয়াল-চ্যানেল ABS নেই। অন্য দিকে Bajaj এবং TVS— দু’টি বাইকেই ডুয়াল-চ্যানেল ABS পাওয়া যায়, যা নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে Yamaha FZ-S Hybrid-এর পিছনের টায়ার সবচেয়ে চওড়া। ফলে কর্নারিং এবং স্থিতিশীলতায় কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

ফিচারে আলাদা ইয়ামাহা
ফিচারের নিরিখে Yamaha FZ-S Fi Hybrid কিছুটা আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। এই বাইকে রয়েছে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, যা এই সেগমেন্টে এখনও বিরল। পাশাপাশি রয়েছে ব্লুটুথ-সমর্থিত TFT ডিসপ্লে।

অন্য দিকে Bajaj Pulsar N160-এ রয়েছে LED প্রজেক্টর হেডলাইট। TVS Apache RTR 160 4V-তেও ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির সুবিধা রয়েছে। তবে ডিসপ্লের দিক থেকে ইয়ামাহা এগিয়ে।

দামের বিচারে কোনটি বেশি লাভজনক?
Yamaha FZ-S Fi Hybrid-এর দাম প্রায় ১.৪৫ লক্ষ টাকা। এটি এই তুলনায় সবচেয়ে দামি মডেল।

Bajaj Pulsar N160-এর প্রারম্ভিক দাম প্রায় ১.২২ লক্ষ টাকা। TVS Apache RTR 160 4V-র বিভিন্ন ভ্যারিয়্যান্টের দামও ইয়ামাহার তুলনায় কম।

পারফরম্যান্স, ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং পাওয়ারশালী ইঞ্জিন বিবেচনা করলে Apache RTR 160 4V এবং Pulsar N160 বেশি ভ্যালু-ফর-মানি বলে মনে হতে পারে। তবে যারা ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং উন্নত ডিসপ্লে চান, তাঁদের কাছে Yamaha FZ-S Fi Hybrid আকর্ষণীয় অপশন হতে পারে। 

POST A COMMENT
Advertisement