ট্রেনে উঠতে মানুষের ভিড়।-পিটিআইট্রেনে চেপে গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছেন, তবুও ফেরত পেতে পারেন টিকিটের টাকা! ভারতীয় রেলের এমন একটি নিয়ম সম্পর্কে অনেক যাত্রীই জানেন না। সাধারণত ট্রেন বাতিল হলে, টিকিট কনফার্ম না হলে বা দীর্ঘ বিলম্বের কারণে যাত্রা বাতিল করলে ভাড়া ফেরত পাওয়া যায়। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ভ্রমণ সম্পূর্ণ করার পরেও টিকিটের টাকার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই সুবিধার মূল চাবিকাঠি হল এলএলসি (LLC) বা লোয়ার ক্লাস সার্টিফিকেট। কোনও যাত্রী যদি বুক করা শ্রেণির বদলে বাধ্য হয়ে নিম্ন শ্রেণিতে ভ্রমণ করেন, তাহলে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (TTE) এই সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারেন। এর ভিত্তিতেই যাত্রী ভাড়ার পার্থক্যের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি করতে পারেন।
সম্প্রতি কর্ণাটক সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসকে ঘিরে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, এসি ফার্স্ট ক্লাসের পরিবর্তে ট্রেনে একটি এইচএ (HA) কোচ সংযুক্ত করা হয়েছিল। এই ধরনের কোচের একাংশ ফার্স্ট এসি এবং বাকি অংশ সেকেন্ড এসি। ফলে ফার্স্ট এসির টিকিট কাটা অনেক যাত্রী নির্ধারিত আসন পাননি এবং তাঁদের সেকেন্ড এসিতে যাত্রা করতে হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে টিটিই এলএলসি সার্টিফিকেট ইস্যু করেন, যাতে যাত্রীরা ফার্স্ট এসি ও সেকেন্ড এসির ভাড়ার পার্থক্য ফেরত পেতে পারেন।
শুধু এই ঘটনাই নয়, অন্য কোনও কারণেও যদি যাত্রীকে বুক করা শ্রেণির চেয়ে নিচু শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে হয়, তাহলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, সেকেন্ড এসির টিকিট থাকা সত্ত্বেও যদি কোচের ত্রুটির কারণে থার্ড এসি বা স্লিপার ক্লাসে যাত্রা করতে হয়, তবে এলএলসি সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ভাড়ার পার্থক্য ফেরত দাবি করা যায়।
এ ছাড়াও রেলের প্রচলিত রিফান্ড ব্যবস্থাও বহাল রয়েছে। ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল হলে যাত্রীকে সম্পূর্ণ ভাড়া ফেরত দেওয়া হয় এবং সাধারণত টিডিআর (TDR) জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে ট্রেনের রুট পরিবর্তন বা আংশিক বাতিলের ক্ষেত্রে টাকা ফেরত পেতে টিডিআর জমা দিতে হয়।
আবার কোনও ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তিন ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে ছাড়লে এবং যাত্রী ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিডিআর দাখিল করে সম্পূর্ণ ভাড়া ফেরত পাওয়ার আবেদন করা যায়। এছাড়া ওয়েটিং লিস্টের টিকিট কনফার্ম না হলেও রেলের নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, শুধু ট্রেন বাতিল বা যাত্রা না করলেই নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে ভ্রমণ সম্পন্ন করার পরেও রেলের কাছ থেকে ভাড়ার একটি অংশ ফেরত পাওয়া সম্ভব। তাই এমন পরিস্থিতিতে পড়লে টিটিই-র কাছ থেকে এলএলসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।