যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভদিল্লিতে চলছে ইন্ডিয়া AI সামিট। সেখানে নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে টপকে ঢুকে পড়েন কিছু যুব কংগ্রেস কর্মী। সেখানে টপ-লেস বিক্ষোভ দেখান। প্রায় আট থেকে দশজন যুব কংগ্রেস কর্মী QR কোড স্ক্যান করে ভারত মণ্ডপমে ঢুকে পড়েন। শার্ট খুলে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
ভারত মণ্ডপমের ভিতরে কংগ্রেস কর্মীরা টি-শার্ট নাড়তে শুরু করেন, যাতে লেখা ছিল 'PM COMPORMISED'। তাঁরা স্লোগানও দিতে থাকে। দিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুব কংগ্রেস কর্মীদের আটক করে।
খবর অনুযায়ী, তাদের সকলকে তিলক মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের মতে, এই মামলায় যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার সম্পাদক কুন্দন যাদব, রাজ্য সহ-সভাপতি অজয় কুমার এবং তেলেঙ্গানার নরসিংহ যাদবকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই বিক্ষোভের জন্য কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "যখন বিশ্ব নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারত কীভাবে AI ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করছে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ক্রমবর্ধমান বিশ্ব নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করছে, তখন কংগ্রেস জাতির মর্যাদা বৃদ্ধির পরিবর্তে অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুব কংগ্রেস কর্মীরা লজ্জাজনকভাবে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন। অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন তা কেবল দুর্ভাগ্যজনকই নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সুনাম নষ্ট করার প্রচেষ্টাও। আমি কংগ্রেস দলের এই কাজের নিন্দা জানাই।"
বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র বলেন, এই সমস্ত কংগ্রেস কর্মীরা টি-শার্ট পরেছিলেন, এই নেতারা কোড স্ক্যান করে ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন, তারপর ভিতরে পৌঁছে তারা তাদের পোশাক খুলে হাত নাড়তে শুরু করেছিলেন।
বিজেপি নেতা অমিত মালব্য কংগ্রেসের এই কাজকে দেশের জন্য লজ্জার বিষয় বলে অভিহিত করেছেন।
অমিত মালব্য বলেন, যখন ভারত প্রযুক্তিতে তার উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করছে, তখন কংগ্রেস দল সম্মানের চেয়ে বাধা বেছে নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আজ ভারত মণ্ডপমে উপস্থিত ছিলেন দেশ বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এমন সময় মেন গেটের সামনে চলে আসেন যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। তাঁরা ব্যানার এবং পোস্টার হাতে নিয়ে শুরু করে দেন বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের আটক করেন। তারপর তাঁদের বের করে দেওয়া হয় সম্মেলন স্থল থেকে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক যুব কংগ্রেস কর্মীকে আটক করা হয়েছে এআই সামিট থেকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই খবর। এখন চলছে তদন্ত। খোঁজার চেষ্টা চলছে ঠিক কীভাবে কংগ্রেস কর্মীরা এই অনুষ্ঠান স্থলে ঢুকে পড়লেন।
এই বিক্ষোভের সময় সেখানে ১০ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে খবর মিলছে। এঁদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।