মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরেই কি যুবসাথীর টাকা পেতে পারেন?নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বহু যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের লাভ নিতে মুখিয়ে রয়েছেন। ফলে যুবসাথী এখন বাংলার 'হট টপিক'। এরইমধ্যে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ ক্যাম্প। অন্যদিকে এখন চলছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। সবে শেষ হয়েছে মাধ্যমিক। এমতাবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন করছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর পরেই কি যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে?
নিয়ম কী বলছে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস, ঐক্যশ্রী বা মেধাশ্রীর মতো সরকারি স্কলারশিপ পান তাদেরও মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা। তবে অন্য কোনও স্কিমে টাকা না পেলে, আগামী ৫ বছর ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। পাঁচ বছরে চাকরি না পেলে নাম রিনিউ করা হবে। তারপর ফের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাবেন। তবে লক্ষ্মী ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো স্কিম থাকলে তারা টাকা পাবেন না। আবেদনকারী বর্তমানে কোনও সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
বয়সের ক্ষেত্রে কী নিয়ম রয়েছে?
আসলে বয়সের গেঁরোতেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাওয়ার আগে আটকে যাবেন ২০২৬ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক দেওয়া পড়ুয়ারা। আসলে যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় আসতে নির্দিষ্ট বয়সের গণ্ডি সেট করা হয়েছে। ২১-৪০ বছরের ব্যক্তিরাই এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পেতে পারেন। কিন্তু যারা এই বছরে মাধ্যমিক দিল তাঁদের বয়স ১৬-১৭ এর মধ্যে। আবার যারা উচ্চ-মাধ্য়মিক পাশ করতে চলেছে তাঁদের বয়সও ১৮-১৯ এর মধ্যেই। ফলে তাঁরা কেউই বয়সের হিসেবে যুবসাথীর টাকা পাওয়ার যোগ্য নন। তবে কলেজ পাশ করা কোনও ব্যক্তি ২১ বছর থেকে এই ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাঁরা বিরাট সুবিধা পাবেন।
শুরু হচ্ছে ক্যাম্প:
স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পের মাধ্যমে এই পরিষেবা জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ ক্যাম্প। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই ক্যাম্প চলবে। যুবসাথীর আবেদন অনলাইনে জমা করা যাবে না। বরং অফলাইনে ক্যাম্পে গিয়েই আপনাকে ফর্ম জমা দিতে হবে।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এই স্কিম। অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকেই যোগ্য ব্যক্তিরা টাকা পেতে শুরু করবেন। ৫ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে এই প্রকল্পের আওতায়।