জুলাই মাসেই যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে বিজ্ঞপ্তি? বড় আপডেট১ জুলাই বাংলার মহিলাদের ব্যাঙ্কে ঢুকেছে অন্নপূর্ণার দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০০ টাকা। ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৭৮ জন আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনার পর এখন সকলের নজর যুবশক্তি প্রকল্পের দিকে। বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে যুবশক্তি প্রকল্পের ঘোষণা আগেই করেছিল শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রীসভা। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য বাজেটে বড় ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অর্থমন্ত্রী বাজেটে জানিয়েছেন, কল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প চালু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
অক্টোবর মাস থেকে চালু
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে বাংলার যুবদের ৩০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে চালু হচ্ছে যুবশক্তি প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, রাজ্যের মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্য সরকার যে যুবশক্তি প্রকল্পের আওতায় মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা আগামী অক্টোবর থেকেই শুরু হবে। এই মাস থেকেই রাজ্যের যুবক-যুবতীরা যুব শক্তি প্রকল্পের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন।
সকলেই কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
রাজ্য সরকারের তরফে খুব পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যোগ্য শিক্ষিত অথচ বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় সরকারের মাসিক সহায়তা পাবেন। তবে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না সমান অর্থ। অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি বাজেট পেশের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়ে দেন, অক্টোবর থেকে গ্রাজুয়েট হয়েছেন এমন শিক্ষিত অথচ বেকার যুবক যুবতীরা মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। তাহলে যাঁরা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন কিংবা গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত পড়েননি তাঁরা কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না? মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, গ্র্যাজুয়েট অথচ বেকার এমন যুবক-যুবতীরা ৩০০০ টাকা করে পেলেও অন্যান্যরা অর্থাৎ আন্ডার গ্র্যাজুয়েটরা যুবশক্তি প্রকল্প থেকে মাসে ২০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন। এই অর্থ পৌঁছে যাবে যোগ্য আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুবশক্তি প্রকল্প কর্মসূচি যে সকল পরিবারের আয় মাসে ১ লক্ষ টাকার কম এবং যারা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, শুধুমাত্র সেই সব পরিবারের প্রার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে কর প্রদান করলে বেকার ভাতা মিলবে না।
‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ পোর্টাল তৈরি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য উপভোক্তাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ পোর্টাল তৈরি করা হলেও, আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ ও বিস্তারিত নির্দেশিকা খুব শিগগিরই জানিয়ে দেবে সরকার। যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য ৩০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ রাজ্য বাজেটে।
কী কী নথি জরুরি?
যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন করার জন্য ভোটার আইডি, বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও মার্কশিট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের মতো প্রয়োজনীয় নথিগুলি লাগবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং আবেদনের সময়ে প্রার্থীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে। এই প্রকল্পের পুরো টাকাই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে জালিয়াতি রুখতে সরকার এবার কড়া যাচাইকরণ (Verification) প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। নতুন আবেদনকারীদের পাশাপাশি যাঁরা আগে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নথিপত্রও স্ক্রিনিং করা হবে যাতে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা না পান। যদিও এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মালদার একটি অনুষ্ঠান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ শুরু হওয়ার পর এবার সরকার বৃদ্ধভাতা এবং ‘যুবশক্তি’ যোজনা নিয়ে কাজ করছে, যা খুব শীঘ্রই চালু করা হবে। অনলাইন পোর্টাল প্রস্তুত থাকায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেতের পর মনে করা হচ্ছে জুলাই মাসেই রাজ্য সরকার এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে।